চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহে নতুন জাহাজ পৌঁছেছে
চট্টগ্রাম বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে তিনটি জাহাজ পৌঁছেছে, আরও দুটি জাহাজ পথে রয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ও শনিবার জাহাজ তিনটি চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছায়, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাহাজগুলোর বিস্তারিত তথ্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, এই চালানে মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালের জন্য এলএনজি এবং চট্টগ্রামের জন্য এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। শনিবার মহেশখালীর ভাসমান স্টোরেজ ও রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিটে (এফএসআরইউ) প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘কংটং’ নামক জাহাজ পৌঁছায়। এর আগে শুক্রবার একই টার্মিনালে প্রায় ৬৯ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘ইএমইআই’ নামক জাহাজ পৌঁছায়। একইদিন মালয়েশিয়া থেকে ২ হাজার ৪৭০ টন কার্গো নিয়ে ‘মর্নিং জেলি’ নামক একটি এলপিজি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
আসন্ন জাহাজ ও মাসিক লক্ষ্য
আগামী ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে ‘পল’ নামে একটি জাহাজ এবং ১৫ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া থেকে ‘ম্যারান গ্যাস হাইড্রো’ নামক একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সবমিলিয়ে চলতি মাসে ৯টি এলএনজি জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। প্রতিটি জাহাজে ৬৯-৭০ হাজার টন জ্বালানি রয়েছে, যা দেশের শক্তি খাতের জন্য একটি বড় অগ্রগতি।
অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের খালাস কার্যক্রম
এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলবাহী দুই জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শনিবার রাতের মধ্যে জাহাজ দুটির খালাস কার্যক্রম শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে আসা ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামক ট্যাঙ্কার বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। একই সময়ে ভিড়েছে ২৫ হাজার ৮৬৪ টন ফার্নেস অয়েলবাহী ‘এমটি ইস্টার্ন কুইনস’ নামে আরও একটি জাহাজ।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, “গত শুক্রবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত জ্বালানিবাহী পাঁচটি জাহাজ আসছে। এরমধ্যে তিনটি চলে এসেছে, বাকি দুটি পথে রয়েছে।” বিপিসির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।



