কাতারে এলএনজি উৎপাদন আংশিকভাবে পুনরায় শুরু
কাতারএনার্জি তাদের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অবস্থিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রপ্তানিকেন্দ্রের কার্যক্রম আবার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে বুধবার রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। গত মার্চ মাসে রাস লাফান ও মেসাইদ এলাকার স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে এলএনজি এবং আনুষঙ্গিক পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
উৎপাদন ইউনিট পুনরায় চালু
সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, কিউইএলএনজি নর্থ ১ প্রকল্পের তিনটি ট্রেন বা উৎপাদন ইউনিটের মধ্যে দুটি ইতিমধ্যেই পুনরায় চালু করা হয়েছে। রাস লাফান শিল্পনগরে অবস্থিত এই প্রকল্পটি কাতারের প্রথম এলএনজি প্রকল্প হিসেবে পরিচিত। এখানে মোট তিনটি সাধারণ লিকুইফেকশন ট্রেন রয়েছে, যা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ১ কোটি টন এলএনজি উৎপাদন করতে সক্ষম।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকট
পুরোপুরি উৎপাদনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা। জাহাজ পরিবহন–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানি নৌবাহিনী হুমকি দিয়েছে যে তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালি পার হতে পারবে না এবং এই সমুদ্রপথ এখনো বন্ধ রয়েছে। গত সপ্তাহের শুরুতে কাতারের দুটি এলএনজি ট্যাংকার ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ছাড়পত্র না পেয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা থেকে সরে আসে।
সীমিত পরিসরে কাজ চলছে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় রাস লাফানে সীমিত পরিসরে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। আবার চালুর আগে স্থাপনাটিতে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের কাজও চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই আংশিক উৎপাদন শুরু হতে পারে, তবে কত দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। বড় পরিসরে উৎপাদনে ফিরতে হলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে হবে।
বিশ্বব্যাপী গ্যাস সরবরাহে প্রভাব
মার্চ মাসের শুরু থেকে রাস লাফান স্থাপনাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গত মাসের এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্ল্যান্টটির ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য কাতারের বার্ষিক রপ্তানি সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। তবে এই বিশাল স্থাপনার অন্যান্য অংশগুলো আবার চালু করা সম্ভব হলে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। পুরো প্ল্যান্টটির বছরে ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এলএনজি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
এলএনজি উৎপাদন পুনরায় শুরু করার এই প্রচেষ্টা কাতারের জ্বালানি খাতের জন্য একটি আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে, কিন্তু হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকট এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।



