২২ ঘণ্টা অপেক্ষা: ঢাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন
২২ ঘণ্টা অপেক্ষা: ঢাকায় জ্বালানি তেলের সংকটে দীর্ঘ লাইন

২২ ঘণ্টা ধরে জ্বালানি তেলের অপেক্ষায় ঢাকার ফিলিং স্টেশন

রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন ৬৩ বছরের গাড়িচালক শঙ্কর চন্দ্র দাস। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর সঙ্গে কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তাঁর সামনে অন্তত ৫০০টি গাড়ি ছিল।

লাইনে এগোতে এগোতে রাত সাড়ে ৩টা

শঙ্কর চন্দ্র দাস বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে সামনে এগোতে এগোতে যখন পাম্পের কাছাকাছি যান, তখন রাত সাড়ে ৩টা বাজে। ঠিক তখনই ফিলিং স্টেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তেল শেষ। তেল কখন আসবে, সেটি সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে পারেননি কর্মচারীরা। তাই তিনি পাম্পে তেল আসার অপেক্ষায় গাড়িতেই রাত কাটান।

তিনি আরও বলেন, ‘হেরাতো (মালিক) বড়লোক মানুষ। যে যার মত চইলা যায়গা গাড়িত থেকে নেমে। গরিবানা চাকরি করি। তেল নিতেই হবে।’ এ পর্যন্ত লাইনে থাকতে থাকতে খাবারের পেছনে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি। নিয়োগকর্তা কয়েকবার ফোন করেছেন, তবুও তেল না নিয়ে ফিরতে পারছেন না।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফিলিং স্টেশনের পরিস্থিতি

মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. এরশাদ জানান, তাঁদের পাম্পে প্রতিদিন সাড়ে ১৩ হাজার লিটার অকটেন আসে। গতকাল বিকেল ৫টার সময় তেল এসেছিল, যা রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিক্রির পর শেষ হয়ে গেছে। আজকেও বিকেল ৫টার পর তেল আসবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

এই ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টার দিকে ২৬৫টি প্রাইভেট কার ও ১০৫টি মোটরসাইকেল দেখা গেছে। এসব যানবাহনের চালকেরা তেলের জন্য অপেক্ষায় আছেন। প্রাইভেট কারের লাইন আসাদগেট থেকে ঘুরে সংসদ ভবনের পেছন হয়ে বিজয় সরণি পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যান্য ফিলিং স্টেশনের চিত্র

আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে বেলা একটার দিকে প্রাইভেট কারের চেয়ে মোটরসাইকেলের সারি বেশি দীর্ঘ দেখা গেছে। এই পাম্পে তেলের অপেক্ষায় ৪১০টি মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়ানো ছিল। আসাদগেট হয়ে মোহাম্মদপুর সড়ক হয়ে ইকবাল রোডের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে গেছে মোটরসাইকেলের সারি।

এই ফিলিং স্টেশনে ৪০৫ নম্বর সিরিয়ালে তেলের জন্য দাঁড়িয়েছেন সায়েম আহমেদ। তিনি জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার সময় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, রাত দেড়টার সময় শুনতে পান পাম্পে তেল শেষ। বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেলটি নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বাসায় ফিরে যান। আজ দুপুরে আবার বাসা থেকে মোটরসাইকেলটিকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সাহায্যে পাম্পের সিরিয়াল পর্যন্ত এনেছেন।

সায়েম আহমেদ বলেন, ‘গতকালকেও তেলের জন্য ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করে গেছি এই পাম্পে। রাত দেড়টার দিকে ঘোষণা আসলো তেল শেষ। পরে ভেবেছি অকটেন না পেলে পেট্রল নিব। বলেছে, অকটেনও নাই। আজকে আবার আসলাম।’

চালকদের ক্লান্তি ও হতাশা

তীব্র রোদের কারণে সড়কের একপাশে মোটরবাইক রেখে ফুটপাতে, বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করতে দেখা যায় চালকদের। চোখে-মুখে ক্লান্তি, হতাশা নিয়ে তেলের অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। অনেকেই গতকাল বিকেল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আজ দুপুর পর্যন্ত তেল নিতে পারেননি, যা জ্বালানি তেল সংকটের তীব্রতা তুলে ধরে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো এবং চালকদের জন্য দ্রুত সমাধানের দাবি উঠছে। দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার কারণে দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটছে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।