রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন: প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা আসার পরও রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে।
মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে চিত্র
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ৩৩২টি মোটরসাইকেল ও ১৯২টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষা করছে। মোহাম্মদ পিন্টু নামের এক প্রাইভেট কার চালক গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরও তেল পাননি। তিনি আজ সকাল ৬টায় আবার লাইনে দাঁড়িয়ে বেলা ৩টায় তেল নিতে সক্ষম হন।
মোহাম্মদ পিন্টু বলেন, 'গতকাল সাতটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। আজ আবার ভোর ছয়টায় সেই লাইনে দাঁড়িয়েছি। আসলে কিছু করার নেই।' তার এই অভিজ্ঞতা রাজধানীর অন্যান্য ফিলিং স্টেশনেও দেখা গেছে, যেখানে চালকরা অনুরূপ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
অন্যান্য ফিলিং স্টেশনের অবস্থা
রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে দেখা যায়, তখনো পাম্পে তেল আসেনি, কিন্তু ৯৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৭টি প্রাইভেট কার অপেক্ষা করছে। আরামবাগের এইচ কে ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টার দিকে ১৪৫টি প্রাইভেট কার ও ১৩০টি মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়িয়েছিল, তবে তেল তখনো পৌঁছায়নি।
প্রাইভেট কার চালক নায়েব আলী ভোর ৫টায় এই পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ৭ ঘণ্টা পরেও তেল পাননি। তিনি বলেন, 'ভোর পাঁচটার দিকে সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন পর্যন্ত তেল পাইনি। পাম্পের লোকজন বলেছে দুপুর ১২টার সময় তেল আসবে। এরপর তেল পাবো।'
মতিঝিল ও রমনায় চিত্র
বেলা ১টার দিকে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের লাইন মতিঝিল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন অতিক্রম করেছে, অন্যদিকে প্রাইভেট কারের লাইন দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। রমনার মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থিত ফিলিং স্টেশনে বেলা দেড়টার সময় ১৫২টি প্রাইভেট কার ও ১৯৫টি মোটরসাইকেলের চালক তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
মো. ইয়াছিন সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ঘুরে ঘুরে ফিলিং স্টেশনের সামনে এসে জানতে পারেন তেল শেষ। তিনি বলেন, 'সেই ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে এখন পর্যন্ত এসে শুনি তেল শেষ। আমার সামনে চারটা গাড়ি আছে। পাম্পের লোকজন বলেছে, তেল শেষ। তেল আসতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগবে। আপনারা থাকলে থাকতে পারেন। আমরা তেলের জন্য অপেক্ষা করছি।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তেলের ঘাটতির বিষয়টি সরকার সমাধানের উদ্যোগ নিলে এমন ভোগান্তি হতো না। রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে এই দীর্ঘ লাইন ও অপেক্ষার চিত্র জ্বালানি তেলের সরবরাহে সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা নাগরিক জীবনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।



