চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ ও সার কারখানার উৎপাদন স্থবির
চট্টগ্রামে অবস্থিত গ্যাস-নির্ভর সরকারি চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং দুইটি সার কারখানা বর্তমানে উৎপাদন সংকটের মুখোমুখি। গ্যাসের ঘাটতি এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বছরের অধিকাংশ সময়ই এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে দুইটি কেন্দ্র যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এছাড়া, গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, কাফকো ও সিইউএফএল নামক দুইটি সার কারখানাও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
এলএনজি সরবরাহ সত্ত্বেও গ্যাস ঘাটতি
চট্টগ্রামে গ্যাস সরবরাহ মূলত এলএনজির উপর নির্ভরশীল। জাতীয় গ্রিড থেকে চট্টগ্রামে সংকটের মধ্যেও কোনো গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয় না বলে জানা গেছে। তবে, বর্তমানে এলএনজি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। মহেষখালীর এলএনজি টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। গ্যাস ট্রান্সমিশন সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রামে বর্তমানে ১৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে চট্টগ্রামের দুইটি সার কারখানা এবং তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর অবস্থা
চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত ৪২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুইটি ইউনিট রয়েছে। এই কেন্দ্রটির দৈনিক প্রায় ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেক পুরোনো হওয়ায় যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটে বছরের প্রায় সময় উৎপাদন বন্ধ থাকে। কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট দীর্ঘ দুই বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একটি মেরামত করতে প্রচুর টাকার প্রয়োজন এবং কেন্দ্রটি অধিক পুরোনো হওয়ায় মেরামত করে সফলতা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, ২ নম্বর ইউনিটটি গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন চালু রাখা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘১ নম্বর ইউনিট মেরামত করে চালু করতে প্রচুর টাকা খরচ হবে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। ২ নম্বর ইউনিটটি আমরা গ্যাস পাওয়া মাত্রই উৎপাদনে যেতে পারব। কিন্তু গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছি না।’
শিকলবাহা এলাকায় সরকারি গ্যাস-নির্ভর দুইটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ২২৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি চালু রয়েছে। কিন্তু ১৫০ মেগাওয়াটের অপর ইউনিটটি গত প্রায় তিন বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। জেনারেটর সমস্যায় এটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, অন্যান্য সমস্যা থাকলেও আপাতত জেনারেটর সমস্যার সমাধান হলে উৎপাদন চালু করা যাবে। জেনারেটর স্থাপনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সার কারখানার অবস্থা
এদিকে, কর্ণফুলী ইউরিয়া সার কারখানা ও চিটাগং ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এই দুটি কারখানায় দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, এই দুটি সার কারখানায় সরকারি সিদ্ধান্তে আপাতত গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে, সার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষি খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের শিল্প খাত গ্যাস সরবরাহের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির সমন্বিত প্রভাবে বিদ্যুৎ ও সার কারখানাগুলোর উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যা আঞ্চলিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মত প্রকাশ করেছেন।



