কুষ্টিয়ায় তেল পাম্পে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে নারীসহ ৭ জন আহত, কালোবাজারির অভিযোগ
কুষ্টিয়ায় তেল পাম্প সংঘর্ষে নারীসহ ৭ আহত

কুষ্টিয়ায় তেল পাম্পে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ: নারীসহ ৭ জন আহত, কালোবাজারির অভিযোগ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত রফিক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের কালোবাজারি, অনিয়ম ও প্রভাবশালীদের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত সাত জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণ ও আহতদের তালিকা

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের রফিক ফিলিং স্টেশনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন:

  • আপাং মন্ডল (৬৫ বছর)
  • তার ছেলে রানা (২৩ বছর)
  • হেলাল (৬০ বছর)
  • আমিনুদ্দিন (৭০ বছর)
  • রাজা (৩০ বছর)
  • রত্না খাতুন (৩০ বছর)
  • শিউলী খাতুন (৩৫ বছর)

আহতদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, দুজনের অবস্থা বিশেষভাবে গুরুতর, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কালোবাজারি ও অনিয়মের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রফিক ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ সীমিত করে রাখে। প্রতিদিন মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা তেল বিক্রি করে বাকি তেল মজুদ রাখা হয়, যা পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে অতিরিক্ত দামে কালোবাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার দিন রাতেও একই চিত্র দেখা যায়। ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ ও প্রভাবশালী একটি চক্র গোপনে মজুদকৃত তেল উত্তোলন শুরু করে। তবে তেল বণ্টন নিয়ে নিজেদের মধ্যেই বিরোধ সৃষ্টি হলে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যা এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

অভিযোগ রয়েছে, ফিলিং স্টেশনটি প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম করে আসছে। গ্রাহকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সাধারণ মোটরসাইকেলে সীমিত তেল দেওয়া হলেও রাতের বেলায় কালোবাজারে তেল সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পুরো কার্যক্রমটি পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে, যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে পরবর্তীতে উচ্চমূল্যে তেল বিক্রি করা যায়। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রফিক ফিলিং স্টেশনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, "রাতে তেল উত্তোলন করে কালোবাজারে বিক্রির সময় সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, "সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

পরিস্থিতির মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন যে, ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের এমন অনিয়মিত কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। এলাকায় জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, সংঘর্ষের মূল কারণ তেল বণ্টন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিরোধ। তবে স্থানীয়রা মনে করেন, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অনিয়ম ও কালোবাজারির ফলাফল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিষয়টি তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।