চট্টগ্রাম বন্দরে অকটেনবাহী জাহাজের আগমন: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত
মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত অকটেন নিয়ে 'এমটি সেন্ট্রাল স্টার' নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাত্রা করছে। মার্শাল আইসল্যান্ডের পতাকাবাহী এই জাহাজটি বুধবার (৭ এপ্রিল) বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটিতে ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন রয়েছে, যা বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিপিসি কর্মকর্তার নিশ্চিতকরণ
মঙ্গলবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অকটেনবাহী জাহাজ হিসেবে এটিই প্রথম বাংলাদেশের বন্দরে আসছে। এই ঘটনা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যান্য জ্বালানি খালাসের অবস্থা
এদিকে, মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে আসা 'শান গ্যাং ফা জিয়ান' নামক জাহাজের খালাস কার্যক্রম মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। পাশাপাশি, চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা 'গ্যাস জার্নি' নামক জাহাজের খালাস চলমান রয়েছে, যা বুধবার শেষ হবে বলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক) জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান জ্বালানি খালাস
চবক সূত্র থেকে জানা গেছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে:
- ৩১ মার্চ ভারত থেকে আসা 'গ্যাস চ্যালেঞ্জার' নামক জাহাজ থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস চলছে।
- ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে আসা 'শান গ্যাং ফা জিয়ান' নামের জাহাজ থেকে ডিজেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে।
- অকটেনবাহী 'সেন্ট্রাল স্টার' ও এলপিজিবাহী 'মর্নিং জেইন' বন্দরের জলসীমায় অবস্থান করছে।
চবক সচিবের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মঙ্গলবার জ্বালানিবাহী পাঁচটি জাহাজ বন্দর এবং বন্দরের পথে রয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এলপিজি নিয়ে আসা 'মর্নিং জেইন' নামক জাহাজটি আগামী শুক্রবার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ চেইনকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি আমদানি অব্যাহত থাকায় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই অকটেনবাহী জাহাজের আগমন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।



