মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা

বাংলাদেশে উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলটরি কমিশন (বিইআরসি) মঙ্গলবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করেছে যে, প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২৪ টাকা ৭৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এই নতুন দর আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে, যা দেশের ভেতরে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য লিটারপ্রতি ২২৭ টাকা ৮ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত মাসে দুই দফায় দাম বৃদ্ধির পর আবারও সমন্বয়

গত মাসে জেট ফুয়েলের দাম দুই দফায় বাড়ানো হয়েছিল, যা মোট ১০৭ টাকা বৃদ্ধির সমতুল্য ছিল। প্রথম দফায় লিটারে ১৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৯০ টাকা বাড়ার পর দাম দাঁড়িয়েছিল ২০২ টাকা ২৯ পয়সায়। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে এই দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা, যা বর্তমানে প্রায় ১৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, গত বছরের মে মাস থেকে তারা প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করে আসছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতা

বিইআরসি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিই এই দাম সমন্বয়ের মূল কারণ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালে যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা শুরু করে। এই সংঘাতে জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি বাংলাদেশের জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিইআরসির নতুন এখতিয়ার ও দাম নির্ধারণ প্রক্রিয়া

পূর্বে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), তবে ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত বছরের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি, এবং সেই থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনটি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা বাতিল করার পর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।