জ্বালানি তেলের দীর্ঘ সারিতে কর্মজীবী নারীদের সংগ্রাম
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে আজ মঙ্গলবার জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা সারি দেখা গেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের, যেখানে কর্মজীবী নারীদের জন্য এই সংকট আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাহমুদা বেগমের কষ্টের গল্প
রাজধানীর মালিবাগ মোড়ে রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনের সামনে নিজের স্কুটি নিয়ে দাঁড়িয়েছেন মাহমুদা বেগম। কাকরাইলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা এই নারী বলেন, ‘নারীদের আলাদা লাইন হলে ভালোই হতো। কারণ, আমাদের অনেক কাজ থাকে। সকালে বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে হয়। অফিস আছে।’ তিনি আরও জানান, অফিস থেকে ছুটি নিয়ে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, কারণ বিকেলে অকটেন শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মাহমুদার দুই সন্তান আদিয়াত ও মাহেদকে প্রতিদিন স্কুটিতে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে হয়। তিনি বলেন, ‘সকালে যদি বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে আসতে না হতো, শুধু আমার অফিস থাকত, তাহলে হেঁটে কিংবা রিকশায় যেতাম। এখন তো সেটা করা সম্ভব নয়। সময় মেনে সবকিছু সামলাতে আমাকে স্কুটি ব্যবহার করতেই হয়।’
বিভিন্ন এলাকায় একই চিত্র
রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, পরীবাগের মেঘনা সার্ভিসিং সেন্টার, আরামবাগের এইচ কে ফিলিং স্টেশন এবং মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স পাম্পে একই দৃশ্য দেখা গেছে। সেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ির সারি কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। জাকিরুল ইসলাম নামের এক চালক সকাল সাতটায় সারিতে দাঁড়িয়েও চার ঘণ্টা পরও তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘কী করবে, তেল না নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় আছে? তেল নিতেই হবে। তাই কষ্ট হলেও অপেক্ষা করছি।’
দৈনিক বাংলা মোড়ের বিনিময় ফিলিং স্টেশনে ‘অকটেন নেই’ লেখা বোর্ড ঝুলছে, যা সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করছে। রমনা ফিলিং স্টেশনে ব্যক্তিগত গাড়ির সারি মৎস্য ভবন মোড় থেকে সেগুনবাগিচা–প্রেসক্লাব হয়ে আবার মৎস্য ভবনের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা
প্রাইভেট কারচালক লোকমান ফকির পরীবাগের মেঘনা সার্ভিসিং সেন্টারে সকাল পৌনে ছয়টায় লাইনে দাঁড়িয়েও বেলা ১টা ২০ মিনিটে তেল পাননি। তিনি বলেন, ‘এত সময় পরও তেল পাইনি।’ অনেক চালক মাত্র ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন, যা কয়েক দিন পর আবার তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য করছে।
এই সংকটে কর্মজীবী নারী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে, যেখানে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপের দাবি উঠছে।



