চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি আমদানি: এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েল নিয়ে চার জাহাজ খালাস চলছে
চট্টগ্রাম বন্দরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও গ্যাস অয়েল নিয়ে আরও চারটি জাহাজ পৌঁছেছে এবং সেগুলো বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে নোঙর করেছে। বর্তমানে জাহাজগুলো থেকে জ্বালানি খালাসের প্রক্রিয়া সক্রিয়ভাবে চলছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকালে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত জ্বালানির বিস্তারিত
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র থেকে জানা গেছে, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে এসব জ্বালানি নিয়ে জাহাজগুলো গত কয়েক দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে।
- ভারত থেকে এলপিজি: ৩১ মার্চ একটি জাহাজ এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছায় এবং বর্তমানে এটি ‘ভাটিয়ারি’ এলাকায় অবস্থান করছে। জ্বালানি খালাসের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
- মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল: ‘শান গ্যাং ফা শিয়ান’ জাহাজটি ৩ এপ্রিল গ্যাস অয়েল নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। এটি ‘ডিওজে-৬’ জেটিতে অবস্থান করছে এবং আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে গ্যাস অয়েল খালাস সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
- নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি: ‘কুল ভয়েজার’ জাহাজটি ৫ এপ্রিল এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছে। বর্তমানে এটি ‘এফএসআরইউ’-তে অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে খালাস প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- চীন থেকে এলপিজি: ‘গ্যাস জার্নি’ জাহাজটি গত ৫ এপ্রিল এলপিজি নিয়ে বন্দরে ভিড়েছে। এটি ‘চার্লি’ এলাকায় অবস্থান করছে এবং ৮ এপ্রিলের মধ্যে এলপিজি খালাস কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা আছে।
জ্বালানি আমদানির সাম্প্রতিক প্রবণতা
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা এবং তাদের মধ্যে যুদ্ধের কারণে অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের আমদানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছে বিভিন্ন জ্বালানি তেল নিয়ে। এপ্রিল মাসের চলতি সপ্তাহে জ্বালানি নিয়ে আসে ছয়টি জাহাজ, যা দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সবশেষ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে ৩৪ হাজার টন ডিজেল নিয়ে মালয়েশিয়া থেকে অয়েল ট্যাংকার ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। একই দিন চট্টগ্রাম বন্দরে ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে ভিড়েছে ‘এমটি ইউয়ান জিং হে’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর এটি ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসা নবম জাহাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
এই জ্বালানি আমদানি কার্যক্রম দেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ দ্রুত খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।



