মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্বব্যাপী তেল বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও চারটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক তেল বাজারের অস্থিরতার মধ্যেই চারটি বড় জাহাজ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি এবং গ্যাস অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মেরিন বিভাগের সোমবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই জাহাজগুলো বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে এবং খালাসের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিভিন্ন দেশ থেকে আগত জাহাজের বিস্তারিত তথ্য
বন্দর সূত্রগুলো থেকে জানা যায়, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া এবং চীন থেকে জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো সম্প্রতি বন্দরে এসেছে। নিম্নলিখিত চারটি জাহাজের অবস্থান ও খালাসের সময়সূচি উল্লেখযোগ্য:
- 'গ্যাস চ্যালেঞ্জার' জাহাজটি ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ৩১ মার্চ এসে পৌঁছেছে এবং এটি বর্তমানে 'ভাটিয়ারী' এলাকায় অবস্থান করছে।
- 'শান গ্যাং ফা জিয়ান' জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে ৩ এপ্রিল এসেছে এবং এটি 'ডিওজে-৬' জেটিতে ৭ এপ্রিলের মধ্যে খালাসের জন্য রয়েছে।
- 'কুল ভয়েজার' জাহাজটি নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে ৫ এপ্রিল এসেছে এবং এটি 'এফএসআরইউ'তে খালাস করা হচ্ছে, যা ৮ এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
- 'গ্যাস জার্নি' জাহাজটি চীন থেকে এলপিজি নিয়ে ৫ এপ্রিল এসেছে এবং এটি বর্তমানে 'চার্লি' এলাকায় অবস্থান করছে, ৮ এপ্রিলের মধ্যে খালাস সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন যে, দেশে স্থির জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে এবং অবিরাম বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে এই জ্বালানি পণ্যগুলোর দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সব জাহাজ খালাস করা সম্ভব হবে, যা দেশের জ্বালানি সংকটে কিছুটা স্বস্তি দেবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেললেও চট্টগ্রাম বন্দরে এই জাহাজগুলোর আগমন বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎপরতা এবং সময়মতো খালাসের প্রচেষ্টা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।



