মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় জ্বালানি সংকটে স্বস্তির খবর চট্টগ্রাম বন্দরে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যেই স্বস্তির খবর দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি ও গ্যাস অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অবস্থান করছে চারটি বিশাল জাহাজ। সোমবার (৬ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জাহাজগুলোর উৎস ও অবস্থান
বন্দর সূত্র জানায়, ভারত, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও চীন থেকে এসব জ্বালানি পণ্য নিয়ে জাহাজগুলো গত কয়েক দিনে বন্দরে নোঙর করেছে। এর মধ্যে এলপিজিবাহী ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ গত ৩১ মার্চ এসে বর্তমানে ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থান করছে। মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘শান গ্যাং ফা শিয়ান’ অবস্থান করছে ‘ডিওজে-৬’ জেটিতে। এছাড়া নাইজেরিয়া থেকে এলএনজি নিয়ে আসা ‘কুল ভয়েজার’ এবং চীন থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘গ্যাস জার্নি’ গত ৫ এপ্রিল বন্দরে ভিড়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে অগ্রাধিকার
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ‘এই মুহূর্তে বন্দরে চারটি জ্বালানিবাহী জাহাজ অবস্থান করছে।’ তিনি আরও জানান, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতেই এসব জ্বালানি পণ্য দ্রুত খালাসে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সবগুলো জাহাজ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পণ্য খালাস সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের জ্বালানি সংকটে স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই জ্বালানি পণ্যগুলো দ্রুত খালাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও গৃহস্থালি খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সত্ত্বেও স্থানীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপ জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



