জ্বালানি সংকটে দোকান বন্ধ: বিক্রি অর্ধেক, ব্যবসায়ীদের হিমশিম
জ্বালানি সংকটে দোকান বন্ধ, বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে

জ্বালানি সংকটে দোকান বন্ধ: বিক্রি অর্ধেকে নেমেছে, ব্যবসায়ীদের হিমশিম

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা সাতটার পরও কিছু দোকানপাট চালু থাকতে দেখা গেলেও, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তিন দিন ধরে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যায় বন্ধ হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগের তুলনায় বেচাকেনার সময়সীমা দু-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত কমে গেছে, যা তৈরি পোশাক, জুতা, গৃহস্থালি পণ্য থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিক্রি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।

বিক্রি কমে যাওয়ার প্রভাব

কয়েকটি তৈরি পোশাক, জুতা ও জুয়েলারি ব্র্যান্ডের স্বত্বাধিকারীরা জানিয়েছেন, সাধারণত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যে বিক্রি হয়, তার প্রায় ৪০ শতাংশ হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত, আর সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হয় বাকি ৬০ শতাংশ। ফলে সন্ধ্যায় দোকানপাট ও শপিং মল বন্ধ হওয়ায় বিক্রি স্বাভাবিকভাবেই কমে গেছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসায়ীদের বড় অংশই কর্মীদের বেতন-ভাতা ও দোকান ভাড়া দিতে হিমশিম খাবে। এ ছাড়া বিক্রি কমায় ভ্যাট বাবদ সরকারের রাজস্বও কমে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিকল্প প্রস্তাব

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, সকালে দোকানপাট ও বিপণিবিতানে দু-তিন ঘণ্টা ক্রেতা সমাগম থাকে না। তাই দোকানপাট বেলা ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকতে পারে। এতে দিনের একটা সময় বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, সরকারি রাজস্ব ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালা প্রয়োজন, যা একদিকে শক্তি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে না। এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হচ্ছে, বেলা ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রাখা।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দোকান মালিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যানুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহ ও উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও অনেক ছোট–বড় শিল্পকারখানা। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে খুচরা বিক্রির খাতটির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপিতে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায় অবদান ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ।

দোকান বন্ধ ও খোলা থাকার পরিস্থিতি

দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধের সিদ্ধান্তটি শুক্রবার কার্যকর হলেও সেদিন অনেকেই তা মানেননি। পৌনে সাতটার দিকে ঢাকার নিউমার্কেটের দোকানদারদের ব্যবসা করতে দেখা যায়, রাত প্রায় আটটায় নিউমার্কেট বন্ধ হয়। নিউমার্কেটে সিরাজ জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী দেওয়ান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘গত শুক্র ও শনিবার আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের ৮-১০টি জুয়েলারির বিক্রি ছিল প্রায় শূন্য। আসলে অফিস ছুটির পর কেনাকাটার জন্য চার-পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে।’

শনিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকায় দেখা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। তখন বিভিন্ন দোকানে পণ্য কিনতে আসা অনেক ক্রেতা ফিরে যান। রাত নয়টার দিকে এলিফ্যান্টের রোডের কয়েকটি সিরামিক ও তৈরি পোশাকের দোকান খোলা দেখা যায়, যদিও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল কম।

বিশেষজ্ঞের মতামত

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য দোকানপাট খোলার রাখার সময় কমানোর কারণে ব্যবসায় চাপ বাড়বে। তবে ব্যবসার চাপ ন্যূনতম রেখে জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বসতে পারে। পরীক্ষামূলকভাবে এক সপ্তাহ দেখা যেতে পারে, বর্তমান সময়সীমায় কতটুকু বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে। পরের সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব অনুযায়ী বেলা ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও শপিং মল খোলা রেখে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে।’