রংপুর ও ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট: ফিলিং স্টেশন বন্ধ, চালকদের ভোগান্তি
রংপুর ও ময়মনসিংহে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকটে দুই জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে আছে। পেট্রোল ও অকটেনের মেশিনগুলো অলস পড়ে থাকায় চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না। কোথাও 'অকটেন ও পেট্রোল নেই' লেখা নোটিশ টানানো হয়েছে, আবার কোথাও প্রবেশপথে দড়ি দিয়ে আড়াআড়ি করে বন্ধ রাখা হয়েছে।
রংপুরে তেল সংকটের চিত্র
রংপুর মহানগরীতে অর্ধশতাধিক ফিলিং স্টেশন রয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একটি ছাড়া বাকিগুলো থেকে তেল সরবরাহ করা যায়নি। ফিলিং স্টেশনগুলোর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল দেওয়ায় কোনও ফিলিং স্টেশনই দুই ঘণ্টার বেশি তেল দিতে পারছে না। এজন্য দিনের বেশিরভাগ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
সালেক ফিলিং স্টেশনের আশরাফ হোসেন বলেন, 'আমাদের দৈনিক চাহিদা পাঁচ হাজার লিটারের। কিন্তু আমাদের দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা কোনোভাবেই মেটানো যাচ্ছে না।' ইউনিক ট্রের্ডাস ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রিপন জানান, প্রতিদিনের চাহিদা চার হাজার লিটার হলেও দেওয়া হচ্ছে দুই হাজার লিটার।
চালকদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ
মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, ফিলিং স্টেশন থেকে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হয়। তা দিয়ে বেশি দূর গাড়ি চালানো যায় না, আবার ওই তেল নিয়ে ৮-১০টা ফিলিং স্টেশন ঘুরতে হয়। তাও পাওয়া যায় না। তেলের খোঁজে ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরতে ঘুরতে এক লিটার তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তির শেষ নেই।
রংপুর জেলা ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আশফাক মাহাতাব বলেন, 'আগে জানানো হতো কখন কোন ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া হবে, এখন আর তা জানানো হচ্ছে না। পুরোপুরি সমন্বয়হীনতা চলছে।'
ময়মনসিংহের অবস্থা
ময়মনসিংহের বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত না থাকায় বন্ধ রয়েছে। দু’একটি ফিলিং স্টেশন খোলা আছে দেখলেই তেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। মাসকান্দা স্টার ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সামসু মিয়া জানান, তেল মজুত না থাকায় তিন দিন ধরে স্টেশন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
নগরীর পুলিশ লাইনস সংলগ্ন ফুল ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। খবর পেয়ে তেলের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন চালকরা। সাইফুল ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী রতন জানান, তেলের গাড়ি আসায় সকাল থেকে চালকদের মাঝে সরবরাহ করা হচ্ছে। যানবাহন চালকদের চাপ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ লাইন রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রমিজ আলম বলেন, 'জ্বালানি তেলের কোনও সংকট নেই। তবে পেট্রোল ও অকটেন নিয়ম করে দেওয়া হচ্ছে। আমরা সার্বিক বিষয়ে নজর রাখছি।' এই বক্তব্যের পরও চালকদের ভোগান্তি কমছে না বলে জানা গেছে।
এই সংকটে হাজারো মোটরসাইকেল ও যানবাহন বন্ধ হয়ে আছে। চালকদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। তেলের অভাবে অনেক মোটরসাইকেল অচল হয়ে পড়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না তেল। স্টেশনগুলো কখন খোলে আর কখন তেল দেয় তাও জানতে পারছেন না চালকরা।



