ভোলায় জ্বালানি সংকটে দুই শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে
ভোলা: জ্বালানি তেলের মারাত্মক সংকটের মুখোমুখি হয়ে ভোলা জেলার বিসিক শিল্প নগরীতে অবস্থিত দুটি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পথে রয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিক মো. জামাল উদ্দিন খান শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন।
ডিজেলের অভাবে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত
মো. জামাল উদ্দিন খান দাবি করেন, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল না পাওয়ায় মেসার্স খান ফ্লওয়ার মিল ও জেকে ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠান দুটি ক্রমশ সংকটের দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, "ইতোমধ্যে আমাদের কাছে প্রয়োজনীয় মজুদ থাকা ডিজেল শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কোনো ডিজেল মজুদ নেই। নদীর ঘাট থেকে গাড়িতে করে গম গুদামে নিয়ে আসার মতো জ্বালানিও আমাদের হাতে নেই।"
এই সংকটের ফলে প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে উৎপাদিত ময়দা, ভূষি ও মুড়ির মতো পণ্য ভোলার দক্ষিণ আইচা থেকে ইলিশা ফেরিঘাট পর্যন্ত এবং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মসংস্থান হুমকির মুখে
জামাল খান আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "আজ থেকে যদি আমি ডিজেল সরবরাহ না পাই, তাহলে ভোলা জেলার চরফ্যাশন, লালমোহন ও বিভিন্ন উপজেলায় আমাদের পণ্য পৌঁছানো বন্ধ হয়ে যাবে। ডিজেলের অভাবে পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হলে প্রতিষ্ঠান দুটির সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়বেন।"
তিনি অভিযোগ করেন, ভোলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও ডিজেল সংগ্রহ করতে পারছেন না, এবং স্টেশনগুলো তাকে জ্বালানি সরবরাহ করছে না। এই পরিস্থিতিতে নিজের শিল্প প্রতিষ্ঠান দুটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
শিল্প খাতের জন্য হুমকি
এই ঘটনা ভোলা জেলার শিল্প খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকট কেবল উৎপাদনই নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। মো. জামাল উদ্দিন খানের এই দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যারা অনুরূপ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরকারি পর্যায় থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভোলার মতো অন্যান্য অঞ্চলেও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন।



