জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি পদক্ষেপ: ১৭ লাখ টন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে সৃষ্ট অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে ১৭ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এ জন্য সরকারি ছুটির দিনেই অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকের নেতৃত্ব ও প্রক্রিয়া
বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন কমিটিগুলোর প্রধান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মোট ১৭ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাবটি প্রথমে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সেখানে অনুমোদন মিললে, পরে অনুষ্ঠিত ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
আমদানির প্রস্তাবিত বিবরণ
ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ টন ডিজেল ও ১ লাখ টন অকটেন আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে। এছাড়া একই দেশের আরেক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ১ লাখ টন ডিজেল এবং কাজাখস্তানের কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি থেকে ৫ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাবও তোলা হতে পারে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তথ্যমতে, চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। আজ যে আমদানির প্রস্তাবটি তোলা হচ্ছে, তাতে মোট ১৭ লাখ টনের মধ্যে ১৬ লাখ টনই ডিজেল। এর আগে, গত ৩১ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টন জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছিল।
সময়সীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আগামী মে ও জুন মাসের মধ্যে এসব জ্বালানি তেল দেশে পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথমে ক্রয় কমিটির অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে পারফরম্যান্স গ্যারান্টি (পিজি) নেবে বিপিসি। এরপর ঋণপত্র (এলসি) খোলা হবে এবং সবশেষে কোম্পানিগুলোকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে।
সরকারের অবস্থান ও বর্তমান সরবরাহ
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব ও মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই সরকার জরুরি বৈঠক ডেকেছে। দেশে অকটেনের সরবরাহে সংকট নেই, অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন আছে। চলতি এপ্রিলে ডিজেলেরও সংকট নেই।’ তার মতে, এই পদক্ষেপটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় একটি প্রাক-সতর্কতা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।
সরকারের এই জরুরি সিদ্ধান্তটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



