সারাদেশে ১১ জেলায় জ্বালানি তেল জব্দ: ২০ হাজার লিটার উদ্ধার, ৮ জন জরিমানা
সারাদেশের ১১ জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যাপক অভিযানে ২০ হাজার লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় অবৈধ মজুত ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮ জন ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে, পাশাপাশি ৪টি প্রতিষ্ঠানও অর্থদণ্ডের আওতায় এসেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং কোনো অনিয়মের তথ্য পেলে দ্রুত জানানোর জন্য জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন জেলায় অভিযানের বিস্তারিত
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় র্যাব-২-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে ২৯৬ লিটার অকটেন ও ডিজেল জব্দ করে। দুটি প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নরসিংদীর মাধবদীতে বুধবার রাতে প্রায় ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়, যেখানে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল অন্তর্ভুক্ত ছিল। পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্ধার মানিক নদীতে নোঙ্গর করা ট্রলার থেকে ৩১ ব্যারেল পেট্রোল ও ডিজেল জব্দ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৬২০০ লিটার।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় পুলিশের অভিযানে ১৩৩০ লিটার চোরাই ডিজেল উদ্ধার করা হয় এবং দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ২৩২০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে, যেখানে তিনজনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই জেলার নেছারাবাদে ৪০১৮ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয় এবং এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
অন্যান্য জেলার অভিযান
ফরিদপুরের সালথায় ৩২০ লিটার ডিজেল বহনকারী এক যুবককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নওগাঁর মহাদেবপুরে ৪১২ লিটার পেট্রোল ও অকটেন জব্দ করা হয়েছে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে ৮২৩ লিটার জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুত রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির দায়ে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেল ও এলপিজির অবৈধ মজুত প্রতিরোধে অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এসব অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, র্যাব, পুলিশ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
প্রশাসনের সতর্ক বার্তা
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি ও অবৈধ মজুত বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং জব্দকৃত তেল সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হচ্ছে। জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তারা বলেছেন, কোনো অনিয়মের তথ্য পেলে তা দ্রুত প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।



