সিলেটে তেল পাম্প বন্ধ: সিন্ডিকেটের চুৎস্পাহ ও জনজীবনের ভোগান্তি
সিলেটে ধর্মঘটের কারণে ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় এই অবস্থা দেখা গেছে। হিব্রু ভাষায় 'চুৎস্পাহ' বা চরম ধৃষ্টতার মতো ঘটনা এখন বাংলাদেশের তেল পাম্পগুলোতে ঘটছে। রাস্তায় তেলের পাম্পের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এখন নিয়মিত দৃশ্য, কিন্তু এই সারি কয়েক কিলোমিটার লম্বা হয়ে গেলে এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর 'তেল নেই' শুনতে হলে তা সাধারণ ভোগান্তি নয়, বরং নাগরিক অবমাননায় পরিণত হয়।
সিন্ডিকেটের চরম ধৃষ্টতা
বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অভ্যন্তরে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেট সুযোগ নিচ্ছে। তেল মজুত থাকা সত্ত্বেও 'তেল নেই' বলে মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে 'ধর্মঘট' ডেকে দেশ অচল করা—এটাই চুৎস্পাহের উদাহরণ। সিলেটে অবৈধভাবে তেল মজুত করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করায় পাম্পমালিকেরা সম্মিলিতভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি প্রকাশ্য ব্ল্যাকমেল, যেখানে বার্তা দেওয়া হচ্ছে: 'আমরা চুরি করব, কিন্তু সাজা পাব না; সাজা দিলে জনজীবন বিপর্যস্ত করব।'
কৃষি ও অর্থনীতিতে প্রভাব
এই ধর্মঘট শুধু সিলেটে সীমাবদ্ধ নেই; রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রামসহ আটটি জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে কৃষক সমাজ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। ডিজেলের অভাবে সেচ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় ধস নামাতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও এর প্রভাব পড়ছে; পাম্পে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাক ব্যাহত হচ্ছে, ফলে পাইকারি বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের মতো লাইফলাইনে জ্বালানির অভাব তৈরি করা মুদ্রাস্ফীতিকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।
সরকারের ভূমিকা ও বিকল্প ব্যবস্থা
বাংলাদেশ সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে জাতীয়ভাবে জ্বালানি মজুতের কোনো ঘাটতি নেই, কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে তা সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছাচ্ছে না। প্রশাসন নিয়মিত অভিযান চালালেও ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠন 'জিম্মি রাজনীতি' শুরু করে। অতীতে পরিবহন ধর্মঘট ঠেকাতে প্রশাসন কঠোর হয়েছে; এখন জ্বালানি খাতেও চরম পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। যেসব পাম্পমালিক তেল থাকতেও সংকট দেখায় বা জরিমানায় পাম্প বন্ধ করে, তাদের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে।
প্রশাসনকে কেবল জরিমানা বা কারাদণ্ডে সীমাবদ্ধ না রেখে, সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী বা বিজিবির তদারকিতে পাম্প পরিচালনার বিকল্প মডেল চিন্তা করতে হবে। রাষ্ট্রীয় মজুতের তেল জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়বদ্ধতা। সিন্ডিকেটের কৃত্রিম দেয়াল তুলে দেওয়াকে মেনে নেওয়া আইনের শাসনের অবমাননা।
জনগণের আহ্বান
দেশের মানুষ অনেক দুর্যোগ সহ্য করেছে, কিন্তু মুষ্টিমেয় তেল ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনের আস্ফালনে কোটি মানুষের জীবনযাত্রা ও খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে না। সরকারের প্রতি আহ্বান, এই 'জিম্মি করার' অপসংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। পাম্প জব্দ করার আইনি পদক্ষেপ নিলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন চুৎস্পাহ করার সাহস পাবে না। জনগণের তেল, কৃষি ও দেশ কোনো সিন্ডিকেটের মর্জিতে অচল হতে দেওয়া যাবে না।



