জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে তীব্র বিতর্ক: হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন ও মন্ত্রীর জবাব
জাতীয় সংসদে জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) সংসদ অধিবেশনে তিনি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে এই ইস্যুটি তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ: পাম্প বন্ধ ও দীর্ঘ সারি
হাসনাত আবদুল্লাহ তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে যে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, 'বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী বলেছিলেন, দেশে কোনও জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তেলের জন্য রাস্তায় দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়েছে। মন্ত্রী কি দেখতে পাচ্ছেন না?'
তিনি আরও যোগ করেন, গ্র্যাজুয়ালি পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনগণ প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছে না, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সরকার এই বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে বলে তিনি সমালোচনা করেন।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর জবাব: সংকট নেই, প্যানিক বায়িং দায়ী
জবাবে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দৃঢ়ভাবে জানান, দেশে জ্বালানি সংকটের দাবি সঠিক নয়। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিদিন তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ইরানের ঘটনার পর পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়েছে।
মন্ত্রীর ভাষ্যে, 'প্রতিটি পাম্পে যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন তা প্রতিদিন যথাযথভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ইরানের ঘটনার পর বিক্রি হঠাৎ বেড়ে গেছে। এর ফলে আগে যে তেল এক দিন বা দেড় দিনে বিক্রি শেষ হতো, এখন তা দুই ঘণ্টায় শেষ হচ্ছে। তাই প্যানিক বায়িংয়ের কারণে লাইনে দাঁড়ানো দেখা যাচ্ছে। তবে তেলের সাপ্লাই প্রতিদিন করা হচ্ছে।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরবরাহ চেইনে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি, কিন্তু ভোক্তাদের মধ্যে আতঙ্কিত ক্রয়ের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদে উত্তপ্ত বিতর্ক ও জনগণের উদ্বেগ
এই আলোচনা সংসদে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের সূচনা করে। হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নটি জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনগণের গভীর উদ্বেগ প্রতিফলিত করে। অন্যদিকে, মন্ত্রীর জবাবে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে যে, সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু বাজার মনস্তত্ত্বের পরিবর্তনের কারণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
এই ঘটনা জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরকারি নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে আরও কার্যকর পরিকল্পনা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।



