বিদ্যুৎ মন্ত্রী: জাতীয় চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতীয় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। মন্ত্রী ঢাকা-১৮ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের একটি প্রশ্নের জবাবে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।
গ্রীষ্মকালে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার
মন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রাথমিক জ্বালানির ঘাটতি, সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা, বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিতে পারে। এই সময়ে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও কার্যক্রম
ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও জানান, বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ ও লোডশেডিং বন্ধে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
- সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন চলছে।
- উৎপাদনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে।
জ্বালানি বহুমুখীকরণ ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে অগ্রসর
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাথমিক জ্বালানির চাহিদা মোকাবেলায় জ্বালানি বহুমুখীকরণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপগুলি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রমের বিস্তার
বিদ্যুৎ ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মনোনীত ভোক্তাদের স্থাপনায় জ্বালানি নিরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ময়মনসিংহ, ঘোড়াশাল ও নারায়ণগঞ্জে ৭৪টি প্রতিষ্ঠানে এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে জ্বালানি নিরীক্ষা জোরদারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৪২ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি নিরীক্ষক এবং ১৭৮ জন সনদপ্রাপ্ত জ্বালানি ব্যবস্থাপক তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের দক্ষ জনবল তৈরির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেন।
সর্বোপরি, মন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আশাবাদী এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।



