ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে সমাধান
সিলেটে ধর্মঘট প্রত্যাহার, জ্বালানি সরবরাহ শুরু

ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর সিলেটে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু

সিলেট বিভাগের সব ফিলিং স্টেশন ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটের পর আজ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এই ঘোষণা দেন।

ধর্মঘটের কারণ ও দুর্ভোগ

গতকাল দিবাগত রাত ১২টা থেকে সিলেটের সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও হয়রানির প্রতিবাদে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। এতে যানবাহনের চালকরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন। সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জ্বালানি না পেয়ে চালক ও স্টেশনকর্মীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তোলে।

বৈঠকে আলোচনা ও সমাধান

আজ বেলা দুইটার দিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, 'সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সবার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আমরা বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযানের নামে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ডিপোতে বিজিবি, পাম্পে পুলিশ ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগে অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন, যার ফলে মানুষের মধ্যে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে মজুত করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, 'বৈঠকে ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে। প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনায় থাকবেন। কোনো হয়রানিমূলক ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী দিনে কোনো ঘটনা ঘটলে আমরা যৌথভাবে সেটি সমাধানের উদ্যোগ নেব। আমরা সব কটি ফিলিং স্টেশন চালু করার আহ্বান জানিয়েছি।'

ধর্মঘটের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

ধর্মঘটের কারণে সিলেট বিভাগে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। তবে, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। এখন থেকে নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সতর্কতা ও সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। এই ঘটনা জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ ও অভিযান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।