সীতাকুণ্ডে অবৈধ তেল ডিপো উদ্ধার, সারাদেশে ব্যাপক অভিযান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের সিডিএ আবাসিক এলাকায় একটি অবৈধ তেল ডিপো থেকে ২৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের একটি অভিযানে এই তেল জব্দ করা হয়। এটি সরকারের সারাদেশে অবৈধ জ্বালানি তেল মজুতের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
সারাদেশে অভিযানের পরিসংখ্যান
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সারাদেশে ৩৮১টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ২৫ হাজার ১৩২ লিটার ডিজেল, ১০ লিটার অকটেন এবং ৩৯৫ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, ১৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং একজনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র (যুগ্মসচিব) মনির হোসেন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বলেন, “৩ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৪ জেলায় মোট ৪ হাজার ৮২৪টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।”
অভিযানের সামগ্রিক ফলাফল
জ্বালানি বিভাগের প্রদত্ত তথ্য অনুসারে, এখন পর্যন্ত সারাদেশে মোট ২ হাজার ৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জরিমানা হিসেবে ১ কোটি ১ লাখ ৪৩৫ টাকা আদায় করা হয়েছে এবং ২৪ জনকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জ্বালানি তেলের পরিমাণ নিম্নরূপ:
- ডিজেল: ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৭৪ লিটার
- অকটেন: ৩০ হাজার ৯৬০ লিটার
- পেট্রল: ৭০ হাজার ৫৪ লিটার
রাজধানীতে র্যাবের অভিযান
রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় আজ বৃহস্পতিবার র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত দুটি তেল বিক্রির প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে ১৫৮ লিটার অকটেন ও ১৩৮ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৯৬ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির মালিকরা তেল মজুত রাখার কথা স্বীকার করেছেন এবং তাদের দোষী সাব্যস্ত করে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত
জ্বালানি বিভাগ দেশে বর্তমান জ্বালানি তেলের মজুতের হিসাব দিয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী:
- ডিজেল: ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ টন
- অকটেন: ৯ হাজার ২১ টন
- পেট্রল: ১২ হাজার ১৯৪ টন
- জেট ফুয়েল: ৪১ হাজার ৮৭৬ টন
সরকারের এই ব্যাপক অভিযান অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত ও বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



