সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনের ধর্মঘট প্রত্যাহার
সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে মালিক-শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। বুধবার রাত পৌনে ৩টার দিকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিভাগের জ্বালানি সরবরাহে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
ধর্মঘটের কারণ ও প্রতিবাদ
ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টায় আকস্মিকভাবে এ ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। মালিকরা দাবি করেন, অযৌক্তিক জরিমানা ও চাঁদাবাজির কারণে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
ধর্মঘট প্রত্যাহার ও বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান জানান, সিলেট বিভাগে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ধর্মঘট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত হওয়ায় সব পাম্পে তাৎক্ষণিকভাবে বার্তা পৌঁছায়নি। এ জন্য পাম্পগুলো চালু হতে কিছুটা সময় লাগছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, সকাল ১০টার মধ্যে সব পাম্পে বার্তা পৌঁছে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, সিলেট বিভাগের সব পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। মালিকরা পাম্প খোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, খুব দ্রুত সবকিছু স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা নিয়ে মালিকদের অসন্তোষ আছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে কিছু ট্যাংকলরি সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলেও আলোচনার দেড় ঘণ্টার মধ্যে তা তুলে নেওয়া হয়।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
পুলিশ কমিশনার জানান, বৃহস্পতিবার পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হবে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সংক্রান্ত স্থায়ী সমাধান বের করা হবে। এতে ভবিষ্যতে অনুরূপ সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেটের জ্বালানি খাতের এই ধর্মঘট প্রত্যাহারে স্থানীয় বাসিন্দা ও যানবাহন মালিকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত সব পাম্প ও সিএনজি স্টেশন পুরোপুরি চালু হয়ে স্বাভাবিক সেবা প্রদান করবে।



