সিলেটে জ্বালানি স্টেশনে ধর্মঘট, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রতিবাদ
সিলেট বিভাগের সব ফিলিং স্টেশন ও সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনে ধর্মঘট চলছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা ও হয়রানির প্রতিবাদে এই ধর্মঘট শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাতে ধর্মঘট শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরী।
অভিযানের পটভূমি ও প্রতিবাদ
এর আগে গতকাল বিকেলে সিলেট নগরের একটি পেট্রলপাম্পে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত মজুতের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও র্যাবের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেন। এ সময় এ অ্যান্ড এ অ্যাসোসিয়েটস নামের একটি পেট্রলপাম্পকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জুবায়ের আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের নামে ফিলিং স্টেশনগুলোয় প্রতিনিয়ত হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিদিনই এমন অভিযান চালানো হচ্ছে। এমনিতেই চাহিদামাফিক জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। তার ওপর এমন চলতে থাকলে ব্যবসা করা সম্ভব না। তাই আমরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি।’
যানবাহন চলাচলে প্রভাব
গতকাল রাত ও আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জ্বালানি না পেয়ে যানবাহনগুলো ফিরে যেতে দেখা গেছে। অনেক ফিলিং স্টেশনের সামনে জ্বালানি সংগ্রহ করতে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। আম্বরখানা এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামের সিএনজিচালিত এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘গ্যাস না পেলে দুপুর পর্যন্ত অটোরিকশাগুলো চলতে পারবে। এরপর আর কোনো যানবাহনই চলাচল করতে পারবে না। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়বে।’
পাম্প মালিকদের ক্ষোভ
পেট্রলপাম্প মালিক সংগঠনের একাধিক নেতা জানান, পাম্পে অভিযান পরিচালনা, জরিমানা আদায় ছাড়াও জ্বালানি তেল বিক্রিতে প্রশাসনের বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে পাম্পের মালিকেরা ক্ষুব্ধ। এর মধ্যে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে, পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, ডিপোয় বিজিবি মোতায়েন আছে—সরকারি এসব সিদ্ধান্ত জ্বালানি ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর মধ্যে প্রতিনিয়ত অভিযান চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
জরুরি সভা আহ্বান
এ পরিস্থিতিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পাম্পের মালিকেরা একটি জরুরি সভা আহ্বান করেছেন। সভায় পেট্রলপাম্প মালিক, সিএনজি পাম্পের মালিক এবং ট্যাংকলরির মালিকেরা উপস্থিত থাকবেন। এই সভায় বর্তমান সংকট সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এই ধর্মঘটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



