জ্বালানি সংকটে মৎস্য ও পর্যটন খাত বিপর্যস্ত, উপকূলীয় অঞ্চলে অচলাবস্থা
জ্বালানি সংকটে মৎস্য-পর্যটন খাত বিপর্যস্ত

জ্বালানি সংকটে মৎস্য ও পর্যটন খাত বিপর্যস্ত

উপকূলীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে মৎস্য আহরণ ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ভোলার মতো জেলাগুলোতে ডিজেলের অভাবে শত শত মাছ ধরার ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না, যার ফলে লাখো জেলে পরিবারের আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি, পর্যটকবাহী যানবাহনের জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যটন খাতেও মারাত্মক ধস নেমেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারে মৎস্য খাতের সংকট

কক্সবাজার জেলার বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্প তেল সংকটের অজুহাতে বন্ধ রয়েছে। এতে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেয়ে সাগরে যেতে পারছে না। শহরের বাঁকখালী নদীর মাঝিরঘাট ও ৬ নম্বর জেটিঘাট এলাকায় তেলের অভাবে শত শত ট্রলার অলসভাবে নোঙর করে আছে। ভাসমান পেট্রোল পাম্পগুলোর অধিকাংশই জ্বালানি শূন্য হয়ে পড়ায় বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে, যা জেলেদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জেলে দিদারুল আলম বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, পেটের দায়ে সাগরে যাই। কিন্তু এখন তেল না পেলে সাগরে যাবো কীভাবে? সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ একইভাবে, জেলে মোহাম্মদ সেলিম উল্লেখ করেন যে, ‘৫০০ জেলে পরিবার বেকার বসে আছি, যাদের আয়ের ওপর পাঁচ হাজার মানুষ নির্ভরশীল।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পর্যটন খাতের উপর প্রভাব

জ্বালানি সংকটের কারণে কক্সবাজারের অন্তত পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যা পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। রেস্তোরাঁগুলোতে সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ কমে গেছে এবং পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো জ্বালানি সংকটে পড়ায় চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অঞ্চলের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা

শুধু কক্সবাজার নয়, দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলার মতো জেলাগুলোতেও একই সংকট বিরাজ করছে। পাথরঘাটা, মহিপুর, আলীপুর ও মনপুরার মতো মৎস্যবন্দরগুলোতে ডিজেলের অভাবে হাজারো ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। ট্রলারমালিক ও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন যে, অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তেল মজুত করছেন এবং চড়া দামে বিক্রি করছেন।

বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার বলেন, ‘কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতারা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সমাধানের আহ্বান

মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আজাদুর রহমান বলেন, ‘তেলের ভয়াবহ সংকটে জেলেরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। কক্সবাজারে ছয় হাজার ট্রলার থাকলেও সেগুলো সাগরে যেতে পারছে না।’ কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সঙ্গে আলোচনা করে নিবন্ধনকৃত নৌযানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ না নিলে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।