ডিজেল সংকটে জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ, সুন্দরবনঘেঁষা পল্লিতে অস্থিরতা
জ্বালানি তেলের সংকটে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অস্থিরতা ও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি গ্রামেগঞ্জেও একই চিত্র বিরাজ করছে। ডিজেল সংকটের কারণে হতাশায় পড়েছেন জেলেরা, যারা মাছ শিকারের জন্য নদী ও সুন্দরবনে যেতে পারছেন না।
জেলেদের মাছ শিকার বন্ধ
ডিজেল না পেয়ে জেলেরা মাছ শিকারে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খুলনার উপকূলীয় জেলেরা এবং সুন্দরবনঘেঁষা দুবলা শুঁটকি পল্লির জেলেরা এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জেলে মোতাসিম ফরাজী বলেন, "ডিজেল ছাড়া নদীতে মাছ শিকারে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। খাবার না নিলেও তেলের মজুত নিয়েই বের হতে হয়। না খেয়ে কাজ করা গেলেও তেল ছাড়া চলাচল করা যায় না।"
স্থানীয়ভাবে তেলের অভাব
পাইকগাছা উপজেলার হিতামপুরের জেলে পরিতোষ কুমার বলেন, "স্থানীয়ভাবে বাড়তি দামে ডিজেল কিনতে চাইলেও চাহিদা মতো মিলছে না। ফলে তেলের জোগান না হলে মাছ শিকারে সুন্দরবন যাওয়া যাচ্ছে না। তাই এলাকাতেই অলস সময় কাটাতে হচ্ছে।" এই অবস্থায় জেলেরা তাদের দৈনন্দিন কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দুবলা শুঁটকি পল্লির অবস্থা
দুবলা ফিশারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, "দুবলা শুঁটকি পল্লিতে ১২০০ ট্রলার রয়েছে। প্রতিটি ট্রলারে দৈনিক ৩০ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। কিন্তু তেল পাওয়া যায় না। ফলে এবারের মৌসুমের শেষ গোন ১০ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান। ফলে এ গোন শেষ না করেই জেলেরা পল্লি ছাড়তে শুরু করেছেন।"
তিনি আরও বলেন, "মজুত তেল দিয়েই জেলেরা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে চান। সাগরে সময় কাটালে বাড়ি ফেরার তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। তাই আগেভাগেই জেলেরা ফিরছেন।"
জেলেদের আর্থিক অবস্থা
কামাল উদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, "জেলেদের ২০ শতাংশ এবার লাভবান হয়েছেন। বাকিরা কোনোরকমে খরচ তুলতে পেরেছেন। বন বিভাগ রাজস্ব আয়ের সাড়ে ৭ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু পল্লিতে জেলেদের সেবার মানের উন্নতি হয়নি মোটেও।"
তিনি বলেন, "এবার সাপে কাটেনি, প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগও হয়নি। তাই জেলেদের ক্ষতি তেমন হয়নি। কিন্তু বয়সজনিত সমস্যা ও হার্ট এটাকে ১৫ জেলের মৃত্যু হয়েছে।"
এই সংকটের ফলে জেলেদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।



