গাজীপুরে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা
জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গাজীপুরে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সম্প্রতি এই আদালতগুলোর মাধ্যমে সাতটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং বাজার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
বুধবারের অভিযানে তিন স্টেশনে জরিমানা
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের পূবাইল, বাসন ও ভুরুলিয়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে জ্বালানি তেল মজুত থাকার পরেও বিক্রি বন্ধ রাখা, কাগজপত্রে ত্রুটি এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করা হয়। ফলস্বরূপ, তিনটি ফিলিং স্টেশনের মালিকদের বিরুদ্ধে মোট ৮২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ফারিয়া তাসনিম জানান, মহানগরীর পূবাইল থানাধীন তুরাগ ফিলিং স্টেশনের মালিককে অবৈধভাবে তেল মজুতের অপরাধে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
অন্যান্য মামলার বিস্তারিত
একই দিনে, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তার মহানগরীর বাসন থানার হক মার্কেট এলাকায় অভিযান চালান। সেখানে মেসার্স বাবুল টেলিকমের মালিককে অতিরিক্ত দামে ডিজেল বিক্রি এবং বৈধ ভেরিফিকেশন সনদ ছাড়াই পরিমাপ যন্ত্র ব্যবহার করার অপরাধে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, ভুরুলিয়া এলাকায় মেসার্স মাহির এন্টারপ্রাইজের মালিককে কাগজপত্রে ত্রুটি থাকার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সমস্ত পদক্ষেপ জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নূরুল করিম ভূঁইয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমকে একটি কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা বাজারে নিয়মিত তদারকি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে।
এই অভিযানগুলো শুধুমাত্র জরিমানা আদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইনে দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা জোরদার করতে সাহায্য করছে। ভবিষ্যতেও অনুরূপ পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।



