ভোলায় দুই কারখানায় অভিযান: ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ, দেড় লাখ টাকা জরিমানা
ভোলার বিসিক শিল্পনগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই কারখানা থেকে প্রায় ৬ হাজার লিটার অবৈধ ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। তবে জরিমানা ও তেল জব্দের পর কারখানা মালিক ও শ্রমিকরা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাস্থলে নৌবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিসিক শিল্পনগরীর মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলস ও তৃষ্ণা ফাস্টফুড বেকারিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে খান ফ্লাওয়ার মিলস থেকে ৩ হাজার ৯৭৬ লিটার এবং তৃষ্ণা বেকারি থেকে ২ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। অবৈধভাবে তেল মজুদ রাখার জন্য খান ফ্লাওয়ার মিলের একটি কক্ষ সিলগালা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়েদ মাহামুদ বুলবুল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়। লাইসেন্স ছাড়া তেল মজুদের দায়ে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬-এর ৫৬(৩) ধারায় খান ফ্লাওয়ার মিলসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, তৃষ্ণা বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়, অনাদায়ে মালিককে সাত দিনের কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়।
জরিমানার পর উত্তেজনা ও নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপ
জরিমানা ও তেল জব্দের পর খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক ও শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াও হন। তারা সড়কে ইট ও বালুর বস্তা ফেলে প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং শান্তি বজায় রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মেসার্স খান ফ্লাওয়ার মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন খান ও তৃষ্ণা বেকারির পরিচালক মো. জুয়েল তাদের পক্ষ থেকে দাবি করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে কারখানার উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। বুধবার বিকেলে মালিক পক্ষ তেল মজুদের স্বপক্ষে কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেন, যা ভবিষ্যৎ আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
অতীতের অনুরূপ ঘটনা
উল্লেখ্য, এর আগেও বিসিক শিল্পনগরীতে অনুরূপ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মোটা চাল চিকন বলে বস্তায় প্যাকেটজাত করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে কারখানা সিলগালার ঘটনা ঘটেছিল। এটি ইঙ্গিত দেয় যে এলাকায় নিয়মিতভাবে অবৈধ কার্যক্রম নজরদারির আওতায় আসছে এবং কর্তৃপক্ষ কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই ঘটনা ভোলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ বাণিজ্য ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সক্রিয়তা এবং নৌবাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



