চিলমারীতে জ্বালানি তেল সংকটে দীর্ঘ লাইন, প্রধান সড়কে যানজটের দুরবস্থা
চিলমারীতে তেল সংকটে দীর্ঘ লাইন, যানজট

চিলমারীতে জ্বালানি তেল সংকট: দীর্ঘ লাইনে হাহাকার, যানজটে বিপর্যস্ত জীবন

সারা দেশের মতো কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় জ্বালানি তেল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। তেলের জন্য চলছে হাহাকার, চারদিকে শুধু সংকট আর সংকটের দৃশ্য। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পাম্প মালিকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত ১-২শ টাকার জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। আর সেই তেল নিতে বাইকারদের রোদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে কয়েক ঘণ্টা। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি হওয়ায় চিলমারী-কুড়িগ্রাম প্রধান সড়কে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে ব্যাপক যানজট, যা স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।

তেল ডিলারদের কৌশলে সংকট তীব্রতর

পাম্প ছাড়া তেল ডিলার ব্যবসায়ীরা তেল উত্তোলন করে নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো সংকট দেখিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করায় বিপাকে পড়ছেন কৃষকরা ও গাড়ির চালকরা। উপজেলার কয়েকজন তেল ডিলার তাদের বরাদ্দের তেল আনলেও সামান্য কিছু বিক্রি করে বিভিন্ন কৌশলে জ্বালানি তেল সংকট সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে তীব্র যানজট

সরেজমিন বুধবার বেলা ১২টার দিকে জ্বালানি তেল নিতে আসা বাইকারদের দীর্ঘ সারির ফলে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কে তীব্র যানজট দেখা গেছে। মোটরসাইকেলে পেট্রল নিতে আসা নুর আলম বলেন, "সকাল ৯টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ১২টার দিকে তেল পেয়েছি মাত্র ২শ টাকার।" তার মতো অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে সামান্য তেল পাচ্ছেন, যা তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতকে ব্যাহত করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাম্প মালিকদের বক্তব্য ও চাহিদার চাপ

মেসার্স সাগর ফিলিং স্টেশনের মালিকপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও তারা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মানুষের পাশে থাকার। তাদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, চিলমারীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি উপজেলার মানুষজন তেল নিতে আসার কারণে ভিড় বাড়ছে, চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই চাপ সামলাতে পাম্প কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছেন।

উপজেলা প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "স্বাভাবিক চাহিদা মোতাবেক ডিপো থেকে জ্বালানি তেল পাওয়াসাপেক্ষে ভোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তবে তেল সরবরাহের অপ্রতুলতা এই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হবে।