পাকুন্দিয়ায় ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলে ভেজালের অভিযোগ, তদন্তে জোরদার উদ্যোগ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মাইজহাটি এলাকায় অবস্থিত বৈশাখী ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে পেট্রলের সঙ্গে ডিজেল মিশিয়ে বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সকালে স্থানীয় ভোক্তারা এই অভিযোগ তোলার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ভোক্তাদের অভিযোগ ও প্রতিবাদের ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেজাল জ্বালানি নেওয়ার পর অনেক মোটরসাইকেল চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে যায়। এতে ক্ষুব্ধ চালকরা ফিলিং স্টেশনের সামনে জমায়েত হয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা সেখান থেকে সরে যান।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। ভোক্তারা দাবি করেন, ভেজাল জ্বালানি বিক্রি করে তাদের অর্থের পাশাপাশি যানবাহনেরও ক্ষতি করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠন
ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেয়। আজ দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপন দাস স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর-ই-আলম, উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ খন্দকার ও বিএসটিআই নরসিংদী আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) কামরুল পলাশকে সদস্য করা হয়েছে।
কমিটির দায়িত্ব ও প্রতিবেদন জমা
ইউএনও রূপন দাস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভেজাল জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা পাকুন্দিয়া এলাকায় জ্বালানি তেলের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



