সিরাজগঞ্জে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে 'ফুয়েল কার্ড' সংগ্রহে গ্রাহকদের ব্যাপক ভিড়
জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গৃহীত 'নো ফুয়েল কার্ড, নো পেট্রোল-অকটেন' নীতির আওতায় ফুয়েল কার্ড সংগ্রহে গ্রাহকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে যানবাহন মালিকরা কার্ড নিতে ব্যাপকভাবে ভিড় জমিয়েছেন।
কার্ড ইস্যুর সময়সীমা বৃদ্ধি
প্রাথমিকভাবে ৩০ ও ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্ড ইস্যুর সময় নির্ধারিত থাকলেও, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তা বাড়িয়ে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে 'ফুয়েল কার্ড' ছাড়া কোনো গ্রাহক পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে পারবেন না বলে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে।
কার্ড সংগ্রহ প্রক্রিয়া ও সুবিধা
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যানবাহন মালিকরা জাতীয় পরিচয়পত্র, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে কার্ড সংগ্রহ করছেন। এই কার্ড প্রদর্শন করে জেলার ২২টি তেল পাম্প থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে পেট্রোল ও অকটেন নেওয়া যাবে।
কৃষি ও পরিবহন খাতে শিথিলতা
তবে কৃষি ও পরিবহন খাতে কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। এসব খাতে সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টাই ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন, যা এই নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম হিসেবে কাজ করছে।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও আশ্বাস
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আসসাদিক জামান বলেন, "ফুয়েল কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ শুরু হলে তেল পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং কালোবাজারিও নিয়ন্ত্রণে আসবে। এতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আরও স্বাভাবিক হবে।"
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং সবাই প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঘোষিত সময় ৪ এপ্রিলের পরও যদি কেউ 'ফুয়েল কার্ড' ইস্যু করতে চান সেই সুযোগ রয়েছে, তবে ৫ এপ্রিলের পর থেকে 'ফুয়েল কার্ড' ছাড়া কাউকে পেট্রোল ও অকটেন দেওয়া হবে না।
কার্ড ইস্যুর পরিসংখ্যান
৩০ ও ৩১ মার্চ এই দুইদিন জেলায় প্রায় তিন হাজার কার্ড ইস্যু হয়েছে বলে জেলা প্রশাসক নিশ্চিত করেছেন। এটি এই নীতির প্রতি স্থানীয়দের ব্যাপক সাড়া ও গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য জেলার জন্যও একটি মডেল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



