হরমুজ প্রণালি সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল মজুদ তলানিতে, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা
ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল মজুদ তলানিতে, উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালি সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল মজুদ তলানিতে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) মারাত্মক সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের মজুদ এখন তলানিতে পৌঁছেছে, যার ফলে শীঘ্রই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

মজুদ সংকটের বিস্তারিত

সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইস্টার্ন রিফাইনারি ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল পেয়েছিল। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নতুন কোনো চালান দেশে আসেনি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কাছে মাত্র প্রায় ২০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে বড়জোর ৫ থেকে ৭ দিন উৎপাদন চালানো যাবে।

ইআরএল সূত্র জানায়, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য প্রায় দুই লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসার কথা ছিল দুটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজ ১ লাখ ৮ হাজার টন তেল লোড করেও সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে রওনা দিতে পারেনি। অন্যটি তেল লোড করতে গন্তব্যেই যেতে সক্ষম হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎপাদন হ্রাস ও বন্ধের আশঙ্কা

ইতিমধ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারি দৈনিক উৎপাদন প্রায় সাড়ে চার হাজার টন থেকে কমিয়ে ৩ হাজার ৩০০ টনে নামিয়ে এনেছে। ইআরএলের উপব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) মুহাম্মদ মামুনুর রশিদ খান জানান, কাঁচামালের নতুন চালান না এলে ৫ এপ্রিলের দু'একদিন আগে-পরে ক্রুড অয়েল প্ল্যান্ট বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিদেশ থেকে দ্রুত নতুন ক্রুড অয়েল চালান আসার সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে মাতারবাড়ি থেকে এসপিএম প্রকল্পের প্রায় ৩-৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল আনার চেষ্টা চলছে, যা দিয়ে দু'একদিন বেশি সময় প্ল্যান্ট চালানো যেতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিকল্প পথে তেল আনার চেষ্টা

বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগর দিয়ে ক্রুড অয়েলের একটি চালান আনার চেষ্টা চলছে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই পথে তেল দেশে পৌঁছাতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে। সাধারণত প্রতি দুই মাসে ক্রুড অয়েলের দুটি জাহাজ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, কিন্তু গত এক মাসে নতুন কোনো চালান আসেনি।

ইস্টার্ন রিফাইনারির গুরুত্ব ও সক্ষমতা

ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল থেকে ডিজেল, এলপিজি গ্যাস, পেট্রোল, ন্যাপথা, জেট ফুয়েল, বিটুমিন, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশই থাকে ডিজেল।

দেশের মোট বার্ষিক জ্বালানি চাহিদা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন, যার ২০ শতাংশেরও কম ইআরএলে পরিশোধিত হয়। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি সরাসরি পরিশোধিত তেল হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক তেল শোধন সক্ষমতা প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি রেকর্ড ১৫ দশমিক ৩৩ লাখ টন তেল শোধন করেছে। শোধনাগারটি পূর্ণ মাত্রায় সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টন ক্রুড অয়েলের প্রয়োজন হয়।

মূলত সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এই অপরিশোধিত তেল আমদানি করে বিপিসি। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি হয়ে জ্বালানি পরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, যা ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।