জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত দেশ: পেট্রল-ডিজেলের অভাবে থমকে যাচ্ছে জীবনযাত্রা
বাংলাদেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রল ও ডিজেলের সরবরাহে ঘাটতির কারণে পেট্রলপাম্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যানবাহন চলাচল থমকে যাচ্ছে এবং দীর্ঘ লাইনে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রামে পেট্রলপাম্প বন্ধ ও দীর্ঘ লাইন
চট্টগ্রামের টাইগারপাস এলাকায় অবস্থিত ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেনের অভাবে বিক্রি বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ট্যাংকে কতটুকু তেল আছে তা মেপে দেখা হচ্ছে, কিন্তু সরবরাহের অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এদিকে, তেল নিতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কিছু ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ থাকায় প্রবেশ ঠেকাতে ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
রংপুর ও ঢাকায় একই চিত্র
রংপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে পেট্রলপাম্প বন্ধ রয়েছে এবং কখন খুলবে তার কোনো ঠিক নেই। তবুও মোটরসাইকেল চালকরা আশায় অপেক্ষা করছেন। ঢাকার পরীবাগ এলাকায় চলতে চলতে তেল ফুরিয়ে যাওয়ায় মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে মানুষকে। এছাড়া, ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে জেনারেটর চালাতে ডিজেল কিনতে মেশিন নিয়ে লাইন দেখা গেছে।
নৌ চলাচল ব্যাহত ও চরাঞ্চলের মানুষের বিপদ
ডিজেলের সংকটের কারণে নৌ চলাচলও থমকে যাচ্ছে। চাঁদপুরের মতলব উপজেলার আমিরাবাদে মাছ শিকারে না গিয়ে নৌকা ও ট্রলারগুলো ঘাটেই বাঁধা রয়েছে। জামালপুরের ইসলামপুরে গুঠাইল নৌকাঘাটে ডিজেলের অভাবে নৌকা চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই সংকটের পেছনে জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি ও বাজার অস্থিরতাকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না পেলে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। সরকারি পর্যায় থেকে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন আক্রান্তরা।



