জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি পদক্ষেপ: ২.৬ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির অনুমোদন
জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি পদক্ষেপ: ২.৬ লাখ টন তেল আমদানি

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের জরুরি পদক্ষেপ

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং বৈশ্বিক অস্থির পরিস্থিতিতে মজুত বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে ২ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদিত জ্বালানির মধ্যে রয়েছে ডিজেল ও ক্রুড অয়েল।

অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সরকার পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বৈঠকের সূত্র অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) এবং সরকার থেকে সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থার অধীনে তিনটি বড় আমদানি প্রস্তাবের জন্য সবুজ সংকেত পেয়েছে।

সরাসরি ক্রয় ও জি-টু-জি পদ্ধতিতে আমদানি

সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি মোকাবিলায় কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে কমিটি এবির ট্রেড অ্যান্ড গ্লোবাল মার্কেটস থেকে ১ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এছাড়াও, একটি জি-টু-জি কাঠামোর অধীনে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি বুমি সিয়াক পুসাকো জাপিন (বিএসপি জাপিন) থেকে ০.৫% সালফার গ্যাস অয়েলের ৬০ হাজার মেট্রিক টন আমদানি করা হবে। পাশাপাশি ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি থেকে ৫০ পিপিএম সালফার ডিজেলের আরও ১ লক্ষ মেট্রিক টন ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিছু প্রস্তাব প্রত্যাহার

বৈঠকে একাধিক প্রস্তাব অনুমোদিত হলেও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এজেন্ডা থেকে দুটি নির্দিষ্ট বিষয় প্রত্যাহার করেছে। প্রত্যাহারকৃত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে এক্সন মোবিল কাজাখস্তান ইনকর্পোরেটেড (ইএমকেআই) থেকে ১ লক্ষ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম সালফার ডিজেল ক্রয়ের প্রস্তাব এবং আর্চার এনার্জি এলএলসি থেকে ০.৫% সালফার গ্যাস অয়েলের ৬০ হাজার মেট্রিক টন আমদানির প্রস্তাব।

দীর্ঘমেয়াদী টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি ক্রয়

দাপ্তরিক সূত্রে জানানো হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদী টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়াতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার অস্থির থাকার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে জ্বালানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো এখন চূড়ান্ত মূল্য যাচাই ও চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) কাছে পাঠানো হবে।

এই জরুরি আমদানি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বৈশ্বিক সংকটের সময়ে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।