জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে: আনু মুহাম্মদ
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ অভিযোগ করেছেন যে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় বহুদিন থেকেই বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি বলেন, এটি বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে চলছে, যা দেশকে ক্রমাগত নির্ভরশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গোলটেবিল আলোচনায় তীব্র সমালোচনা
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জ্বালানি খাত সংস্কার ও ক্যাবের ১৩ দফা দাবি’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় আনু মুহাম্মদ এ মন্তব্য করেন। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এই আয়োজন করে, যাতে অংশ নেন রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘যে চুক্তিগুলো হয়, সেই টেবিলের দুই পাশেই একই পক্ষের লোক থাকে।’ তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিদেশি কোম্পানি এবং তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা চুক্তি প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে, ফলে বাংলাদেশ বিপুল সম্পদ ব্যয় করছে এবং নির্ভরশীলতা বাড়ছে।
নীতিগত ত্রুটি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব
তিনি জ্বালানি সংকটের জন্য আমদানিনির্ভর, বিদেশি ঋণনির্ভর এবং বিদেশি কোম্পানিমুখী নীতিকে দায়ী করেন। আনু মুহাম্মদ উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও জাইকার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা এই সংকট থেকে মুক্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুতের আমদানিমুখী কাঠামো জাইকার একটি মহাপরিকল্পনার অধীন হয়েছে, যা হঠাৎ করে কোনো মন্ত্রী বা উপদেষ্টারা করেননি। এ জন্য তিনি তৎকালীন সরকারকে ‘মেরুদণ্ডহীন ও জাতীয় দায়িত্ববোধহীন’ বলে অভিহিত করেন, কারণ তারা বিদেশি কোম্পানিকে খুশি করতে দেশের মানুষের ওপর ভরসা করে না।
ভিআইপি কালচার ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ
আলোচনায় আনু মুহাম্মদ ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময়ের সংকটের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার এক মাসের মাথায় আবারও অনুরূপ ঘটনা ঘটছে। সংকট এড়াতে তিনি ‘ভিআইপি কালচার’ থেকে বের হওয়ার পরামর্শ দেন, যেখানে ভিআইপি জনগোষ্ঠীর অতিভোগ সংকট বাড়াচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
গোলটেবিলে আরও বক্তব্য দেন:
- নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল
- অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
- সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স
- বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক
- শ্রমিক অধিকারকর্মী তাসলিমা আখতার
আলোচনার শুরুতে ক্যাব বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জ্বালানি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরে।



