মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও অব্যাহত তেল ট্যাংকারের আগমন, চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি সরবরাহের চাপ
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতেও চট্টগ্রাম বন্দরে তেল ট্যাংকারের আগমন অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও চট্টগ্রাম বন্দরে তেল ট্যাংকারের আগমন অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে তেল ট্যাংকারের আগমন অব্যাহত রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে নতুন একটি ট্যাংকারের আগমন ঘটতে যাচ্ছে।

পিভিটি সোলানা ট্যাংকারের আগমন ও আনুমানিক সময়সূচি

পিভিটি সোলানা নামক একটি তেল ট্যাংকার মালয়েশিয়া থেকে ২৭,৩০০ টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজটি মঙ্গলবার নোঙর করার পূর্বে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ডলফিন জেটিতে ভিড়বে। এই সরবরাহ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানি মজুত বৃদ্ধির কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অকটেনের ঘাটতি ও পেট্রোল পাম্পে চাপের অবস্থা

তেল ট্যাংকারের ধারাবাহিক আগমন সত্ত্বেও দেশের পেট্রোল পাম্পগুলিতে চাপের মাত্রা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অনেক ফিলিং স্টেশন সীমিত সময়ের জন্য পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে, যেখানে অকটেনের ঘাটতি সবচেয়ে তীব্র। শহরজুড়ে জ্বালানি স্টেশনগুলিতে বিশেষ করে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন জানান, এই অঞ্চলে ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই, তবে চাহিদার তুলনায় অকটেনের সরবরাহ অপর্যাপ্ত। তিনি বলেন, "জ্বালানি সংকট শুরু হওয়ার পর অকটেন ও অন্যান্য জ্বালানির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু সরবরাহ অপরিবর্তিত রয়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ ও প্রশাসনের তৎপরতা

এদিকে, কিছু এলাকায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। একটি উদাহরণ হিসেবে, রাউজান উপজেলার একটি দোকানে ১২০ টাকা মূল্যের অকটেন ১৫০ টাকায় বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৯৮টি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে ৪০০,০০০ থেকে ৪৫০,০০০ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, "৩ মার্চ থেকে ৩০ মার্চের মধ্যে বন্দরে প্রায় ৩০টি জ্বালানি বহনকারী জাহাজ এসেছে। এই সব জাহাজ ইতিমধ্যেই তাদের পণ্য খালাস করে চলে গেছে। ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ আসার কথা রয়েছে—যার মধ্যে তিনটি এলএনজি, দুটি গ্যাস অয়েল এবং একটি এলপিজি বহন করবে।"

জ্বালানি মজুত পর্যাপ্ত থাকার দাবি ও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান

চট্টগ্রামের উপজেলা কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া দাবি করেছেন যে দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, "আমাদের কাছে অকটেন, পেট্রোল এবং ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। মজুতদারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং অহেতুক কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে।