রংপুরে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় ৮৫ ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ
রংপুর জেলায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে জেলা প্রশাসন ৮৫ জন ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। সোমবার সকাল থেকে এই কর্মকর্তারা জেলার বিভিন্ন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন তদারকি শুরু করেছেন। জেলা প্রশাসনের এই পদক্ষেপ জ্বালানি সংকটের সমাধানে একটি জোরালো উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও তদারকি প্রক্রিয়া
রংপুরের ডেপুটি কমিশনার এনামুল আহসান জানিয়েছেন, এই ৮৫ জন কর্মকর্তা বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তাদের প্রধান দায়িত্ব হলো জেলার প্রতিটি ফুয়েল স্টেশনে দৈনিক জ্বালানি বিক্রয় তদারকি করা। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার জ্বালানির মসৃণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় এবং আশা করছেন পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে।
স্থানীয় সূত্রে সংকটের বর্ণনা
ট্যাগ কর্মকর্তা নিয়োগের পরও স্থানীয় সূত্রগুলো রংপুরে জ্বালানি সংকটের অব্যাহত অবস্থার কথা জানাচ্ছে। শত শত মোটরসাইকেল ও গাড়ি পাম্পে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছে, অনেক ক্রেতা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল ছাড়াই ফিরে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা কিছু লোভী ও অসৎ ব্যবসায়ীর উপর দোষারোপ করছেন, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলায় জ্বালানি মজুত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জেলা ডিপোতে বর্তমানে ৭,৫২২ লিটার ডিজেল, ৩৩,৫০০ লিটার পেট্রোল, ১৪,০০০ লিটার অকটেন এবং ২৭,০০০ লিটার কেরোসিন মজুত রয়েছে বলে জানা গেছে। উচ্চ চাহিদার মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সীমান্তরক্ষী বাংলাদেশ বাহিনীকে তিনটি ডিপোতে মোতায়েন করা হয়েছে। মেঘনা ডিপোর জাকির হোসেন পাটোয়ারীর মতে, দৈনিক চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণের আশা
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। ট্যাগ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করা হয়েছে, যা অবৈধ কার্যকলাপ রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দ্রুততম সময়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন, যাতে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত না হয়।



