চুয়াডাঙ্গায় ফুয়েল কার্ড বিতরণে উত্তেজনা: লাইনে হাতাহাতি-মারামারি
চুয়াডাঙ্গায় তেলের দীর্ঘ সংকট নিরসনে সোমবার (৩০ মার্চ) থেকে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে এই কার্যক্রম শুরু হবার কিছুক্ষণের মধ্যেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লম্বা লাইন পড়ে যায়, যেখানে উত্তেজনা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
লাইনে আগে-পিছে দাঁড়ানো নিয়ে সংঘর্ষ
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলা থেকে হাজারও মানুষ ফুয়েল কার্ডের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হন। এদের মধ্যে মোটরসাইকেল চালক, কৃষক, বিভিন্ন যানবাহনের মালিক-চালক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়েন। রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার কারণে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এ সময় লাইনে আগে-পিছে দাঁড়ানো নিয়ে দুই ব্যক্তির মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। ঘটনার সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ভিডিও করতে গেলে তারা সেখান থেকে চলে যান। তাদের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ঘটনার পর ওই ব্যক্তিরা লাইনের বাইরে চলে যান বলে জানা গেছে।
জেলা প্রশাসনের বক্তব্য ও কার্যক্রম
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম বিএম তারিকুজ্জামান জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ৯টা থেকে কার্ডের জন্য বৈধ কাগজপত্র জমা নেওয়া শুরু হয়েছে। ৩১ মার্চ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ চলবে। পরে জমা হওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে ফুয়েল কার্ড সরবরাহ করবে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে কার্ড দেখালে তেল বিতরণ করবে পাম্প স্টেশনগুলো। চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বমোট ২২টি তেল পাম্প স্টেশন আছে, তারাই ফুয়েল কার্ড দেখে তেল সরবরাহ করবে।
জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে আশ্বাস
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, "দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই গুজবের ভিত্তিতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফুয়েল কার্ড কার্যক্রম চালু হলে তেলের সঠিক বিতরণ, শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তেলের সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের ভোগান্তি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষা ও উত্তেজনার ঘটনা প্রশাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।



