চট্টগ্রামে অবৈধ ডিজেল মজুতের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের একটি বিশেষ অভিযানে সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর এলাকা থেকে প্রায় ২৫ হাজার লিটার অবৈধভাবে মজুত করা ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় পরিচালিত হয় এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনও সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার (৩০ মার্চ) সন্ধ্যায় সলিমপুরের সিটি আবাসিক গেটসংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে উদ্ধার করা তেল পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ অনুযায়ী মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র সমুদ্রগামী জাহাজ ও তেল ডিপো থেকে পরিবহনের সময় জ্বালানি তেল অপসারণ করে গোপনে মজুত করছিল। এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ থেকে অভিযান চলছে, যেদিন ছয় হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসকের বক্তব্য
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাংবাদিকদের বলেন, "যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষকে জিম্মি করে ব্যবসা করছে, তারা ব্যবসায়ী নয়—অপরাধী। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খুবই ভালো কাজ করছে এবং দেশে জ্বালানির কোনও ঘাটতি নেই।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, এ পর্যন্ত প্রায় ১০টি জাহাজ এসেছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজ রওনা হয়েছে, যাতে প্রায় ৩০০ টন ডিজেল রয়েছে। এই জাহাজটি আগামীকাল চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করবে, এবং গত দুই দিনেও আরও দুটি জাহাজ থেকে তেল খালাস হয়েছে।
মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নির্দেশনা
বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, "আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মজুত রয়েছে। তাই আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সংগ্রহ করুন। কেউ অতিরিক্ত মজুত করলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযানের পরিসংখ্যান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসন জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৯৮টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৪.৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ১৮ থেকে ২০টি মামলা করা হয়েছে।
প্রশাসন বলছে, অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। সীতাকুণ্ড উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তদারকি করেন, এবং গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



