মাদারীপুরে জ্বালানি তেল সংকট: মোটরসাইকেল চালকদের হাড়ভাঙা অপেক্ষা ও বিশৃঙ্খলা
মাদারীপুরে তেল সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি

মাদারীপুরে জ্বালানি তেল সংকটে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা

মাদারীপুর শহরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়েছেন স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকেরা। সোমবার দুপুরে শহরের ইউসূফ ফিলিং স্টেশনে তেলের ট্রাক এলে দুই শতাধিক চালক হুমড়ি খেয়ে পড়েন, যা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পুলিশ ও পাম্প কর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, কিন্তু ভোগান্তির শেষ নেই।

দীর্ঘ লাইনে হাড়ভাঙা পরিশ্রম

সাইফুল ইসলাম নামের এক চালক, যিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ের কাজ করেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে মাত্র ৩০০ টাকার পেট্রল পান। তিনি বলেন, ‘হাড়ভাঙা পরিশ্রম শেষে তেল পেলাম। অন্য বেলায় কাজ করব কখন? ৩০০ টাকার তেল দিয়ে দুই দিনও চলবে না। এমন চলতে থাকলে চাকরিটাও চলে যাবে।’ তাঁর মতো অন্তত ২৫০ জন চালককে একই ভোগান্তিতে পড়তে দেখা গেছে।

অন্যান্য যানবাহনেরও সমস্যা

মোটরসাইকেলের দীর্ঘ জটলার কারণে অন্য গাড়ির প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যায়। বেলা একটার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্স এলে মোটরসাইকেলের চাপে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, যা স্বাস্থ্যসেবায় বিঘ্ন ঘটায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পাম্পগুলো নির্দিষ্ট সময়ে তেল সরবরাহ করে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়, ফলে ক্রেতারা মারাত্মক অসুবিধার সম্মুখীন হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি

ইউসূফ ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসূফ হাওলাদার জানান, ফেব্রুয়ারিতে ৩০ হাজার লিটার পেট্রল বিক্রি হলেও মার্চে তা বেড়ে ৪০ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। তবুও ক্রেতার চাপ এত বেশি যে ২৪ ঘণ্টা তেল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘সরবরাহ বাড়লেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলার অন্যান্য পাম্পের অবস্থা

মাদারীপুর সদরের মস্তফাপুর, পখিরা, ঘটকচর ও খোয়াজপুর এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলো দিনের বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। শাজাহান খানের মালিকানাধীন সার্বিক ফিলিং স্টেশন শুধু নিজস্ব পরিবহনের জন্য ডিজেল সরবরাহ করে, অন্য যানবাহনে বিক্রি করে না। স্থানীয় ক্রেতা মোহাম্মদ হাসিবুল্লাহ বলেন, ‘অনেক পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি করছে না, তাই ভিড় বেশি।’

প্রশাসনের বক্তব্য

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সারা দেশেই জ্বালানি তেলের সংকট থাকায় মাদারীপুরেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। তেল মজুত রাখার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত তদারকি চলছে।’ তিনি আশ্বাস দেন যে সংকট কাটাতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এই সংকটে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, দ্রুত সমাধান না হলে দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে। রাজৈর উপজেলা থেকে আসা সুমন বিশ্বাসের মতো অনেকেই পাঁচ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করে সামান্য তেল পাচ্ছেন, যা তাদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।