ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন প্রকৃত জ্বালানি সংকট নয়, অতিরিক্ত মজুতই চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রী
দীর্ঘ লাইন প্রকৃত সংকট নয়, অতিরিক্ত মজুতই চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রী

ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন প্রকৃত জ্বালানি সংকট নয়, অতিরিক্ত মজুতই চ্যালেঞ্জ: মন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জাতীয় সংসদে সোমবার (৩০ মার্চ) দেওয়া বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের চিত্র প্রকৃত জ্বালানি সংকটের ইঙ্গিত বহন করে না। বরং বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশ জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে।

অতিরিক্ত মজুত প্রবণতাই মূল সমস্যা

মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় ও মজুত করার প্রবণতা। তিনি বলেন, "বাস্তব চাহিদা সেই হারে না বাড়লেও জনমনে অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বাজারে কৃত্রিম চাপ তৈরি করছে।"

উদাহরণস্বরূপ তিনি জানান, একটি মোটরসাইকেল সাধারণত ৫ লিটার অকটেন নিলেও বর্তমানে অনেকেই দিনে কয়েকবার এসে ১৫ থেকে ২০ লিটার পর্যন্ত সংগ্রহ করছেন। ২০২৫ সালের মার্চে একটি ফিলিং স্টেশনে দৈনিক গড়ে ৫,৪০০ লিটার অকটেন বিক্রি হতো, যা ২০২৬ সালের মার্চে বেড়ে প্রায় ১০,৬২০ লিটারে পৌঁছেছে—প্রায় ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি

মন্ত্রী সংসদে জ্বালানি সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • সরকার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশে ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার মেট্রিক টন, যা ৩০ মার্চে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টনে।
  • একই সময়ে ৪১ দিনে প্রায় ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বিক্রি হলেও মজুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রতিফলিত হয়েছে।
  • আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকার জ্বালানি সরবরাহ আরও বাড়িয়েছে, যাতে পরিবহণ, কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্ন থাকে।
  • ২০২৫ সালের মার্চের চাহিদাকে ভিত্তি ধরে ২০২৬ সালের মার্চে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভর্তুকি ও মূল্য স্থিতিশীলতা

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও দেশে জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়নি বলে মন্ত্রী জানান। বর্তমানে ডিজেলের প্রকৃত ব্যয় প্রতি লিটার প্রায় ১৯৮ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। অকটেনের ক্ষেত্রেও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এ খাতে সরকারের মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে অভিযান

অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে ইতোমধ্যে ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ৫৩টি মামলা দায়ের, প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সরকার এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে এবং দেশীয় উৎস থেকে আরও ৩০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে দুই মাসের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

জনগণের প্রতি আহ্বান

মন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ক্রয় ও মজুত থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং অবৈধ মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, সংকটের সময় রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো। তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ যেকোনো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।