ঢাকায় তীব্র জ্বালানি সংকট: পাম্পে তেল নেই, খোলাবাজারে চড়া দাম
ঢাকায় জ্বালানি সংকট: পাম্পে তেল নেই, খোলাবাজারে চড়া দাম

ঢাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে নগরজীবন বিপর্যস্ত

রাজধানী ঢাকায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের মধ্যে নগরজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঈদের পরদিন থেকেই মতিঝিল, মালিবাগ, পল্টন, শান্তিনগর, মুগদা, বনশ্রীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ পাম্পের সামনে ‘তেল নেই’ লেখা নোটিশ ঝুলতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে সীমিত পরিমাণ তেল পাওয়া গেলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে হতাশ হয়ে ফিরছেন অসংখ্য গ্রাহক।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি

যেসব পাম্পে অল্প পরিমাণে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর সামনে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক সময় তেল পাচ্ছেন না। এই দীর্ঘ অপেক্ষা ও হতাশা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে এবং কোথাও কোথাও বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।

অসাধু কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের গোপনে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী ও ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। পাম্পে প্রকাশ্যে তেল না থাকলেও গোপনে অতিরিক্ত টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কর্মচারীদের হাতে বাড়তি টাকা দিলে বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এক মোটরসাইকেল চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ পর বলা হলো তেল নেই; কিন্তু পরে দেখলাম, আলাদা করে টাকা দিলে অন্যদের তেল দেওয়া হচ্ছে। এটা স্পষ্ট অনিয়ম।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খোলাবাজারে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে

এদিকে খোলাবাজারেও জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। মুগদা, মানিকনগর ও বনশ্রী এলাকায় কিছু দোকান ও গ্যারেজে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন সরকার নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ-তিনগুণ দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। যেখানে পেট্রোল প্রতি লিটার ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা থাকার কথা, সেখানে বাস্তবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। খোলাবাজার থেকে তেল কিনতে বাধ্য হওয়া এক গ্রাহক রাহিবুল হাসান মারুফ বলেন, “পরিবার নিয়ে বের হওয়ার জন্য বেশি দামে তেল কিনতে হয়েছে। পাম্পে তেল না পেয়ে কোনো উপায় ছিল না।”

পাম্প মালিক ও কর্মচারীদের বক্তব্য

অন্যদিকে পাম্প মালিক ও কর্মচারীরা বলছেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সীমিতভাবে তেল বিতরণ করছেন। অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে কর্মচারীরা মানসিক চাপেও রয়েছেন বলে জানান তারা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ব্যাখ্যা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারের পদক্ষেপ

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার অবৈধ মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ঘোষণা দিয়েছে, অবৈধভাবে তেল মজুত বা পাচারের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।