বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সংসদে ঘোষণা: জ্বালানি সংকট নেই, মজুতদারি সমস্যা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সোমবার সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই; বরং জ্বালানি মজুতদারি ও অতিরিক্ত ক্রয়ের কারণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বাস্তবে, আমরা গত বছরের তুলনায় সরবরাহ বাড়িয়েছি।”
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সংসদে বিবৃতি
মন্ত্রী সংসদীয় কার্যপদ্ধতি বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী বিবৃতি দিয়ে দেশে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আতঙ্কজনক ক্রয়ের প্রেক্ষিতে তিনি এই বিবৃতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার সরকার বেশি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেরেছে।
ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “নিশ্চিতভাবেই মানুষের প্রকৃত ব্যবহার এক বছরের মধ্যে হঠাৎ দ্বিগুণ হতে পারে না। এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন আমাদের কাছে স্পষ্ট করে দেয় যে জ্বালানি মজুতদারির মানসিকতা এখন জ্বালানি সংকটের চেয়েও বড় সমস্যা।”
মজুতদারির প্রভাব ও সরকারের প্রস্তুতি
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমাদের পর্যাপ্ত সরবরাহ ও প্রস্তুতি সত্ত্বেও, যদি মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্রয় করে বা গ্রাম ও শহরে অবৈধভাবে মজুত করে, তাহলে স্বাভাবিক সরবরাহ অনিবার্যভাবে ব্যাহত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান জ্বালানি সমস্যা মোকাবিলায় জনগণের মধ্যে আস্থা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
জনগণের সহযোগিতার আহ্বান
মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে এখানে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জনগণকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মেনে চলার আহ্বান জানান:
- অতিরিক্ত ক্রয় এড়িয়ে চলুন
- মজুতদারি ও সংরক্ষণ থেকে বিরত থাকুন
- জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করুন
- মজুতদারি ও অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন
তিনি বলেন, জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব। সরকারের পর্যাপ্ত সরবরাহ সত্ত্বেও মজুতদারির কারণে সৃষ্ট সংকট কাটিয়ে উঠতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।



