জ্বালানি সংকটে অবৈধ মজুত ও পাচার: ১৭ জেলায় অভিযান, গ্রেফতার ৭
জ্বালানি সংকটে অবৈধ মজুত: ১৭ জেলায় অভিযান

জ্বালানি সংকটে অবৈধ মজুত ও পাচার: ১৭ জেলায় অভিযান, গ্রেফতার সাত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত গড়ে তুলছেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঘটনাও ঘটছে। পুলিশ সদর দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের ১৭টি জেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত তথ্য

পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৭ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ বিকাল পর্যন্ত ১৭টি জেলায় জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের সন্ধান পাওয়া গেছে। কক্সবাজার, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম মহানগর, কুড়িগ্রাম, দিনাজপুর, পাবনা, জামালপুর, বাগেরহাট, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও গাজীপুরে জ্বালানির অবৈধভাবে মজুত করার একটি করে ঘটনা চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও ফরিদপুরে দুটি স্থানে জ্বালানির অবৈধ মজুত পাওয়া গেছে।

উল্লেখযোগ্য অভিযান ও জব্দকৃত মালামাল

১৭ মার্চ সারা দেশে জ্বালানির অবৈধ মজুত ও পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এই অভিযানের অংশ হিসেবে ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর চৌধুরীর গুদামে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। শনিবার ফরিদপুর সদরের হোসেন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির মজুত থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে বিক্রি বন্ধ রেখে ‘পেট্রল নেই’ বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে রাখার অভিযোগে প্রতিষ্ঠান মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পাচারের ঘটনা ও গ্রেফতার

জ্বালানির শুধু অবৈধ মজুতই নয়, প্রতিবেশী দেশে পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে। এই অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ইতোমধ্যে সাত জন গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের সময় ডিজেল, আলকাতরা, ডিজেল ইঞ্জিনসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুমোদন ছাড়া বিক্রি ও অতিরিক্ত মূল্য

জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে বেশি মুনাফার আশায় অনেক ব্যবসায়ী অনুমোদন ছাড়াই জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন। এমন একটি ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার হাটখলা বাজারে। সেখানে মেসার্স চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত করে অতিরিক্ত মূল্যে খুচরা বিক্রি করছিল। এই অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে সাড়ে তিন হাজার লিটার পেট্রল জব্দ ও মালিককে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

পুলিশের কঠোর অবস্থান

জ্বালানির অবৈধ মজুতদার ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বলেন, "অবৈধভাবে যারা জ্বালানি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি সরবরাহের পাম্পগুলোতে অনিয়ম বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে একজন ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন। তবে ভোক্তাদের সচেতনতা ও নিয়মিত মনিটরিং এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।