যশোরে তেলের কৃত্রিম সংকটে পাম্প মালিকের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
যশোরে তেলের কৃত্রিম সংকটে পাম্প মালিক জরিমানা

যশোরে তেলের কৃত্রিম সংকটে পাম্প মালিকের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

যশোর শহরের মনিহার এলাকায় তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্প বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির অপরাধে মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে আর এন রোডের ‘যাত্রীক পাম্পে’ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দেখা যায়, পাম্পের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংকে (হাউজে) ৮১৫ লিটার পেট্রোল মজুত রয়েছে। অথচ পাম্প কর্তৃপক্ষ তেল নেই অজুহাতে পাম্প বন্ধ রেখেছিল। এতে বাইরে তীব্র রোদে শত শত যানবাহন ও চালক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তির শিকার হন।

এই অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় পাম্প কর্তৃপক্ষকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্প খুলে দিয়ে লাইনে থাকা চালকদের মাঝে তেল সরবরাহের নির্দেশ দেন আদালত। জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত পাম্পে তেলের পরিমাপ (মেশিন ক্যালিব্রেশন) সঠিক আছে কি না তাও পরীক্ষা করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা ও তদারকির কঠোর পদক্ষেপ

এ ছাড়া পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলমেট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। কাগজপত্র বৈধ ও হেলমেট থাকলে তাদেরকে তেল দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে সুশৃঙ্খলভাবে তেল বিতরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযান শেষে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামীম হোসেন বলেন, ‘আমাদের তদারকি টিমের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে যাত্রীক পাম্পে আসা হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও তারা জনসাধারণের কাছে তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। পরে তেলের হাউজ পরিদর্শন করে কাঠি মেপে দেখা যায় ৮১৫ লিটার পেট্রোল মজুত আছে। এটি সুস্পষ্ট অপরাধ এবং চরম ভোগান্তির কারণ।’

প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পটভূমি

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হঠাৎ শহরের যে দুটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন, তার একটি ছিল যাত্রীক। সেখানে তিনি নানা অনিয়ম দেখতে পান এবং তখনই জেলা প্রশাসনকে এই বিষয়ে কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার ফলস্বরূপ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ঘটনা জ্বালানি খাতের তদারকি ও ভোক্তা সুরক্ষার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযানের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।