বিদ্যুৎ মন্ত্রী টুকুর ঘোষণা: প্রিপেইড মিটার চার্জ খতিয়ে দেখছে সরকার
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কার নিয়ে জনপ্রত্যাশা শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে ভার্চ্যুয়ালি অংশ নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে সরকার বর্তমানে প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জের বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে। এই ঘোষণা এসেছে রোববারের ওই বৈঠকে, যেখানে মন্ত্রী জনগণের উদ্বেগের প্রতি সাড়া দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন।
গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ শতাংশ চার্জ নিয়ে জনগণের প্রশ্ন
বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ উল্লেখ করেছেন যে, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ নেওয়া হচ্ছে এবং এই বিষয়টি নিয়ে জনগণের মাঝে উল্লেখযোগ্য প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই চার্জের হার নিয়ে অস্পষ্টতা বিদ্যমান, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রী তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন, ‘প্রিপেইড মিটারে যে মাসিক মিটার চার্জ কাটা হয়, সেটি কীভাবে নির্ধারিত হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার চায় সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত করতে এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে।
মিটারের প্রোগ্রাম পরীক্ষা-নিরীক্ষার নির্দেশনা
সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রী আরও বিস্তারিত জানিয়েছেন যে, মিটারের ব্যবহৃত প্রোগ্রাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। প্রি-পেইড মিটারের প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করে এবং ভেতরে কী সেটিং আছে—সেগুলো বুঝতে পারলে ১০ শতাংশ চার্জ নিয়ে সমাধানে আসা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার আশা করছে যে, চার্জের হার নিয়ে অসঙ্গতি দূর হবে এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পাবে। মন্ত্রী উদ্যোগী হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, এই বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করা হবে যাতে জনগণের স্বার্থ রক্ষা পায়।
বিদ্যুৎ খাত সংস্কারে সরকারের প্রতিশ্রুতি
এই গোলটেবিল বৈঠকটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত সংস্কারের প্রসঙ্গে আয়োজিত হয়েছিল, যেখানে মন্ত্রী টুকু সরকারের সংশোধনী প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সরকার সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে চলেছে এবং বিদ্যুৎ খাতের সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক। প্রিপেইড মিটার চার্জের বিষয়টি খতিয়ে দেখার এই সিদ্ধান্তটি বিদ্যুৎ খাতের স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সর্বোপরি, বিদ্যুৎমন্ত্রীর এই ঘোষণা জনগণের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে, এবং এটি বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন হলে, গ্রাহকরা আরও ন্যায্য ও স্বচ্ছ চার্জ পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।



