জ্বালানি সংকটে অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে বিনামূল্যে গণপরিবহণ, মাসব্যাপী চলবে উদ্যোগ
অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে বিনামূল্যে গণপরিবহণ মাসব্যাপী

জ্বালানি সংকটে অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে বিনামূল্যে গণপরিবহণ চালু

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের তীব্র প্রভাব মোকাবেলায় অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া ও তাসমানিয়া রাজ্য সরকার একটি অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে পুরো এপ্রিল মাসব্যাপী এই দুই রাজ্যে লাখ লাখ নাগরিক বিনামূল্যে গণপরিবহণে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো পেট্রোলের আকাশচুম্বী দাম ও সরবরাহ সংকটে দিশেহারা সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমিয়ে স্বস্তি দেওয়া।

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা

ইরানে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট তেল বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ঘাটতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটকে তীব্র করেছে। অস্ট্রেলিয়াতেও এই নেতিবাচক প্রভাব সুস্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে জ্বালানি তেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে কয়েকশত সার্ভিস স্টেশনে পেট্রোল ফুরিয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায়, সরকার নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছেড়ে গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সরকারের রাজস্ব ক্ষতি ও যাত্রীদের সাশ্রয়

ভিক্টোরিয়া সরকারের এই পদক্ষেপে এক মাসের জন্য সব ধরনের গণপরিবহণ ভাড়া মওকুফ করা হয়েছে, যার ফলে সরকারের প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্টা অ্যালান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন নিয়মিত যাত্রী পুরো এপ্রিল মাসে অন্তত ২২০ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, এই সাময়িক ব্যবস্থা জীবনযাত্রার ব্যয়ের সব সমস্যার সমাধান করবে না, তবে এটি জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কমিয়ে মানুষের পকেটের চাপ হালকা করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্ববোধ

প্রিমিয়ার অ্যালান আরও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান সংকটে জনগণ সরকারের কাছে কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা করছে এবং সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "এই উদ্যোগ শুধু আর্থিক স্বস্তিই দেবে না, বরং গণপরিবহণ ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবেশগত সুবিধাও বয়ে আনবে।" তাসমানিয়া রাজ্য সরকারও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যা দুই রাজ্যের সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় একটি উদ্ভাবনী উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা অন্যান্য দেশের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।