নাটোরে লরি থেকে ২ হাজার লিটার পেট্রল-ডিজেল উধাও, ম্যানেজারের জেল-জরিমানা
নাটোরের সিংড়া উপজেলায় একটি লরি থেকে ২ হাজার লিটার পেট্রল ও ডিজেল রহস্যজনকভাবে উধাও হওয়ায় লরির ম্যানেজারকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে ম্যানেজার আবু সাইদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই শাস্তি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়ার ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাতের আদালতে প্রদান করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (২৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার জামতলি বাজারে অবস্থিত মেসার্স আঁখি ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত সিংড়ায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেলের কারবার রোধ করতে ফিলিং স্টেশনটি তদারকি করতে যান। তদারকির সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে লরিতে বরাদ্দকৃত তেলের পরিমাণ কমে গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, লরিতে বরাদ্দকৃত ৪৫০০ লিটার পেট্রলের মধ্যে ১৫০০ লিটার এবং সমপরিমাণ ডিজেলের মধ্যে ৫০০ লিটার ডিজেল রাতারাতি রাস্তার মধ্যেই উধাও হয়ে যায়। এই তেল চুরির ঘটনা সন্দেহজনক মনে হলে ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী আহসান হাবীব নিজেই মুঠোফোনে ইউএনওকে বিষয়টি জানান।
আদালতের রায় ও প্রতিক্রিয়া
ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত দ্রুত এ মামলার শুনানি করে এবং লরির ম্যানেজার আবু সাইদকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। ইউএনও আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, "জ্বালানি তেলের অপচয় ও অবৈধ কারবার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এই শাস্তি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।"
ফিলিং স্টেশনের মালিক আহসান হাবীব ঘটনাটি উন্মোচনে সহযোগিতা করার জন্য প্রশংসা করেন এবং বলেন যে তিনি সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এই ঘটনা সিংড়া এলাকায় জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই শাস্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন যে এর মাধ্যমে অবৈধ কার্যকলাপে বাধা সৃষ্টি হবে এবং ভোক্তাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে। নাটোর জেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন সক্রিয় ভূমিকা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



