মন্ত্রীর রাতের অপ্রত্যাশিত তেল ডিপো পরিদর্শন: সিন্ডিকেট ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ
রাত তখন প্রায় ১০টা। সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে বের হন বিদ্যুৎ, খনিজ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তাঁর সঙ্গে পুলিশ প্রটোকল থাকলেও কেউ জানেন না তিনি কোথায় যাবেন। এরপর তিনি সার্কিট হাউজে গিয়ে জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন মহাসড়কের দিকে। তখনও কেউ জানেন না কোথায় যাবেন তিনি।
গভীর রাতে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে উপস্থিতি
গাড়িবহর নিয়ে একটানে শহর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে চলে যান মন্ত্রী। তখন রাত বাজে প্রায় পৌনে ১২টা। ডিপোর গেট বন্ধ ছিল এবং গেটম্যানও জানেন না কে আসছেন। পুলিশের ডাকে গেট খুলে দেন গেটম্যান। পরে ডিপো ইনচার্জ সংবাদ পেয়ে তড়িঘড়ি করে ঘুম থেকে উঠে গেটে চলে আসেন। এ সময় মন্ত্রী ডিপো এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা সবগুলো ডিপোতে তেল দিচ্ছি। ডিপো থেকে তেলও বের হয়ে যাচ্ছে। তেল বের হওয়ার পরও আমরা দেখছি হাহাকার। দেশে তেল নেই। এটা কীভাবে সুষম বণ্টন করা যায়... সেসব বিষয়ে ডিপো ইনচার্জদের সাথে আলোচনা করলাম।"
সিন্ডিকেট তদন্ত ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ
মন্ত্রী প্রত্যেক ইনচার্জকে নির্দেশনা দেন যেন প্রতিটি পাম্পে ঠিকমতো তেল পৌঁছায়। তিনি বলেন, "আমি যেন না শুনি কোনো পাম্পে তেল যায়নি। এটি তারা কীভাবে করবে সেই নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করছি আগামীকাল শনিবার থেকে তারা এ নির্দেশনা পালন করবে এবং প্রতিটি পাম্পে ঠিকমতো তেল যাবে।" বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা সেটি দেখা এবং চোরাকারবারি বন্ধসহ প্ল্যানিং দেওয়ার জন্যই মূলত গভীর রাতে ডিপো পরিদর্শন করেন বলে জানান তিনি।
এ সময় মন্ত্রী সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের বাঘাবাড়ী ডিপো এলাকায় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে কিনা এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে সেই বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
বাঘাবাড়ী ডিপোর গুরুত্ব ও সরবরাহ পরিস্থিতি
প্রসঙ্গত, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপো থেকে রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের ২০টি জেলার পাম্পে তেল সরবরাহ করা হয়। ইরান যুদ্ধের পর থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছিল। এতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫০-২৮০টি পাম্পে তেল যেত। মন্ত্রীর এই অপ্রত্যাশিত পরিদর্শন তেল সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করতে এবং সিন্ডিকেট কার্যক্রম বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



