নেত্রকোনায় অবৈধ পেট্রল মজুত ও বিক্রির অভিযোগে ব্যবসায়ীর ৪০ হাজার টাকা জরিমানা
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার রামপুর বাজারে অবৈধভাবে পেট্রল মজুত ও লাইসেন্স ছাড়া বিক্রির অভিযোগে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ৮০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে এ ঘটনায় এনায়েতুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ীকে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিফাতুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ তেল জব্দসহ জরিমানা করেন।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান রামপুর বাজারের একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশে জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। এমতাবস্থায় রামপুর বাজারে ব্যবসায়ী এনায়েতুর রহমান পেট্রল অবৈধভাবে মজুত করে লাইসেন্স ছাড়া অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ইউএনওর নেতৃত্বে সেখানে অভিযান চালানো হলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।
এ সময় এনায়েতুর রহমানের গুদামঘরে অবৈধভাবে ড্রামে মজুত করে রাখা ৮০০ লিটার পেট্রল জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই ব্যবসায়ীকে পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা; ভোক্তা অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকাসহ মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জব্দকৃত পেট্রলের ব্যবস্থাপনা
জব্দকৃত এসব পেট্রোল শনিবার সকাল ১০টার সময় রামপুর বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী প্রকাশ্যে বিক্রির জন্য কেন্দুয়া থানার ওসিকে নির্দেশনা প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে যাতে স্থানীয় ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে জ্বালানি তেল পেতে পারেন এবং অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ হয়।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেলের সংকটের সময়ে অবৈধ মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে কেউ ফায়দা নিতে না পারে সেজন্য প্রত্যেক এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের প্রভাব ও গুরুত্ব
এই অভিযানটি স্থানীয়ভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে যে, অবৈধ জ্বালানি তেলের ব্যবসা বন্ধ করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। এটি ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং জ্বালানি তেলের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ কার্যকলাপ দমন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



